
রাতের নীরবতা ভেঙে গুলির শব্দ, তারপর নৃশংস হামলা। প্রায় তিন বছর আগে মুন্সিগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে ঘটে যাওয়া শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় অবশেষে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদেরও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী এবং ইব্রাহিম বেপারী। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী। এদের মধ্যে ইব্রাহিম বেপারী, লিটন বেপারী, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান এবং হাবিব বেপারী বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “মুন্সিগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে ২০২৩ সালের ১৩ জুন শ্যামল খাওয়াদাওয়া শেষে রাত ১০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়েন। পূর্ব বিরোধের জের ধরে রাত ১টার দিকে এমদাদ জরুরি কথা আছে বলে শ্যামলকে ডেকে আনে। দরজা খোলার সাথে সাথেই শাহাদাত ভিকটিমের হাতে দুটি গুলি চালায়। জাহাঙ্গীর পায়ে গুলি করে এবং ইব্রাহিম বেপারীও পায়ে দুটি গুলি করে। আরও দুইজন শ্যামলকে গুলি করে।
শ্যামল ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তারা তাকে টেনে হেঁচড়ে বাইরে উঠানে নিয়ে আসে এবং গুরুতর আহত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাবিব মাথায় গুলি করে। শ্যামলের মুখ দিয়ে গোঙানি শুরু হলে শাহাদাত বেপারী চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথার মাঝ বরাবর কোপ দেয়। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যায়।”
ঘটনার পর বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চু ফোন করে বিষয়টি শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম বেপারীকে জানান। পরে তাকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন ইব্রাহিম মিয়া মুন্সিগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ৩ এ স্থানান্তর করা হয়। গত বছরের ১৪ জুলাই ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।