
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মাঝেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে একাধিক কৌশল নিয়েছে সরকার। হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল দ্রুত ছাড় করাতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরব থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল কেনা হয়েছে।
নতুন এই চালান লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে এই তেল দেশে এলে চলমান সংকট অনেকটাই কমে আসবে।
বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে বহন করা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। যদিও জাহাজটি এখন সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করছে, ইরানের অনুমোদন না থাকায় এটি বাংলাদেশে রওনা দিতে পারছে না।
ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিলেও এই তেলবাহী জাহাজটি সেই তালিকায় নেই। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, সমস্যার সমাধানে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে আসবে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির জটিলতা এড়াতে নতুন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। সদ্য কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় পরিবহন ঝুঁকি তুলনামূলক কম।
আগামী ২০ এপ্রিল তেল জাহাজে তোলা হবে এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই চালান মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা হবে।
পরিশোধনের পর এই পরিমাণ তেল থেকে পাওয়া যাবে প্রায় ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম মনে করেন, এই চালান দেশে পৌঁছালে বর্তমান সংকট অনেকটা কমবে, তবে বাড়তি চাহিদা পূরণে বিদেশ থেকে আরও ডিজেল আমদানি করতে হতে পারে।
বিশ্ব পরিস্থিতির প্রভাবে গত মার্চ মাসেই বিকল্প উৎস থেকে অন্তত ৩৯টি জ্বালানি তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়।