
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে আলোচিত নন্দিনী হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রের দুটি গরু নিলামে বিক্রির ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা গোলাম কিবরিয়া রিপনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে গরু বিক্রির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোলাম কিবরিয়া রিপন আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে প্রকাশ্যে নিলাম পরিচালনা করতে দেখা যায়। ভিডিওতে বারবার দর হাঁকার পর শেষ পর্যন্ত গরু দুটি ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভেলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। গরু বিক্রির অর্থ ও নিলামের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে স্থানীয়দের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। কেন গরু বিক্রি করা হয়েছে এবং বিক্রির অর্থ কোথায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে গোলাম কিবরিয়া রিপন বলেন, গরু বিক্রির ঘটনা সত্য। তবে এ বিষয়ে উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি দাবি করেন, বিক্রির অর্থ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে এবং আসামি জামিনে মুক্তি পেলে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “গরুর টাকা আমাদের কাছে জমা আছে। আসামির জামিন হলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আপনি দেখা করেন, এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে সাক্ষাতে কথা হবে।”
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, গরু বিক্রির বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও তার কাছে নেই।
আসামির সম্পত্তি নিলামে বিক্রির বৈধতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গরু কিংবা অন্য কোনো সম্পত্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি; মামলা হয়েছে ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাই এভাবে গরু নিলামে বিক্রি করা আইনগতভাবে অপরাধের শামিল।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুন উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী নন্দিনী রানীর বস্তাবন্দি ও মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নন্দিনী স্থানীয় কৃষক নলনী বর্মণের মেয়ে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্ত বিধান বর্মণের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি যানবাহন ভাঙচুর এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং পরে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি থেকে অভিযুক্তকে আটক করে।
পরবর্তীতে নিহত শিশুর বাবা নলনী বর্মণ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি বিধান বর্মণ জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে এবং তার বাবাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।