
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রোববারের ওই ফোনালাপে আল-আলিমি হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চান বলে চারটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স। চলতি মাসে হুতিরা দ্রুতগতির অভিযানের মাধ্যমে বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের বেশ কয়েকটি কৌশলগত এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়।
তবে ফোনালাপে ট্রাম্প ইয়েমেন সরকারকে সরাসরি সামরিক সহায়তা দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি বলে জানিয়েছেন দুই সূত্র—একজন ইয়েমেনি ও একজন পশ্চিমা কর্মকর্তা।
ফলে হুতিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রার মুখে ওয়াশিংটন ইয়েমেনের সংঘাতে কতটা সরাসরি ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাব আল-মানদেব ঘিরে উদ্বেগ
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মানদেব বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর একটি। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনে এই জলপথের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার ফলে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা প্রণালির কাছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং কৌশলগত ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা
রয়টার্সের সূত্রগুলো বলছে, আল-আলিমি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চাইলেও ট্রাম্প সরাসরি সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেননি। এর আগে সৌদি আরবও হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে হুতিদের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পর তারা লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা না করার আশ্বাস দিয়েছে। বিষয়টি ইয়েমেন সংঘাতে ওয়াশিংটনের পরবর্তী অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাতে হুতিরা রাজধানী সানাসহ দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সমর্থন পেয়ে আসছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের পরিস্থিতির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে আছে।