
দেশের গ্যাসের চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ রাখতে চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সরকার-টু-সরকার (G2G) চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০২৬ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনা হবে। পাশাপাশি আরও তিনটি প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ছয় কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হয়।
চার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এলএনজি
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্ল্যাককিউব ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার।
এ ছাড়া ওমানের ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসির কাছ থেকে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব এলএনজির মূল্য হবে জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক ৫৪ মার্কিন ডলার যোগ করে।
হংকংয়ের ঝেনইউ শিপিং কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রতি এমএমবিটিইউর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ দশমিক ৯৫ মার্কিন ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান থেকে ১১৭ কার্গো
সবচেয়ে বড় সরবরাহের প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের গানভর ইউএসএ এলএলসির সঙ্গে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে করা হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত মোট ১১৭ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পাঁচ কার্গো, ২০২৭ সালে ছয় কার্গো এবং ২০২৮ সালে তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এসব কার্গোর দাম নির্ধারণ করা হবে জেকে এম সূচকের সঙ্গে প্রতি এমএমবিটিইউতে শূন্য দশমিক শূন্য ৮৭৫ মার্কিন ডলার যোগ করে।
এ ছাড়া ২০২৮ সালে আরও তিন কার্গো এবং ২০২৯ থেকে ২০৩৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ১০ কার্গো করে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ পর্যায়ের এলএনজির মূল্য নির্ধারণ করা হবে ১২১ শতাংশ এইচএইচ সূচকের সঙ্গে ৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার যোগ করে।
জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—দুই ধরনের ব্যবস্থায় এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের আশা, দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্পট ও স্বল্পমেয়াদি ক্রয়ের মাধ্যমে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।