
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। সংস্থাটি জানিয়েছে, আইন প্রয়োগে কঠোরতা বোঝাতে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেননি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ পুলিশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের সরাসরি প্রতিরোধ বা আক্রমণের মুখে পড়তে হয়।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে সরকারি দায়িত্ব পালন, অপরাধী গ্রেপ্তার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, প্রচলিত আইন- বিশেষ করে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৬১—পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টি স্বীকার করে।
আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানায়, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ সময় আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করা হলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তা বলা হয়নি।
একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স। বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সম্পর্কে তিনি ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি; অসাবধানতাবশত এমনটি হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।