
দেশের কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে পলাতক স্বৈরাচারের অর্থায়ন রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এমন কিছু গোষ্ঠী, যাদের সঙ্গে সীমান্তের ওপারে থাকা একটি পক্ষের যোগসাজশ রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয় দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি পরিষ্কার করে হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে।”
তিনি আরও বলেন, “অর্থ সরবরাহ করে কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে, যারা দেশে ভ্রান্তি ছড়ায়, যারা নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
‘একাত্তর ও চব্বিশকে ধারণ করে বিএনপি’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গেছে। তাঁদের স্মরণে সোমবার ঢাকায় একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। বিএনপি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন—দুটোকেই ধারণ করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। আহত জুলাইযোদ্ধাদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের আন্দোলনকে ধারণ করার কথা বলা সব রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে সেসব দলের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
তিনি বলেন, “অর্থাৎ একাত্তর সালে তারা জনগণকে যেভাবে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি বলছে। তাদের কর্মে আমরা আরেকটি কাজের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।”
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর অঙ্গীকার
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে মা-বোনেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন—এমন প্রচারণাও চালানো হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে কি না।
তিনি বলেন, “উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে ১২ তারিখে যেভাবে বিএনপির পাশে ছিলেন, আগামী পাঁচ বছরও বিএনপিকে সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।”
একাত্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে—এমন রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
৩৮ হাজার ৯৭০ আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা
এর আগে জনসভায় আখচাষিদের প্রণোদনা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। কম্পিউটারের বোতাম চেপে তিনি সংশ্লিষ্ট কৃষকদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম শুরু করেন।
তারেক রহমান বলেন, আখচাষিদের সহযোগিতায় সরকার মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ অর্থ দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহায়তা কৃষকদের আখ চাষে উৎসাহিত করবে এবং তাঁদের উৎপাদন কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে।
প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। এ সময় জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষ সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরে তিনি দেশের ১৫টি চিনিকল এলাকার ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রণোদনার প্রতীকী চেক তুলে দেন।
চেক পাওয়া কৃষকেরা হলেন আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনসহ অন্য নেতারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা এবং কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।