
চাটমোহরের জমি জবর দখলের অভিযোগ
পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়াল ইউনিয়নে জমি জবর দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।...
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন, যাকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সমবেতদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়। কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, আর পাল্টায় তিনি কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন সেই তালিকা তুলে ধরছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন ট্রাম্প। নতুন শুল্ক আরোপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে। ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে। অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাল্টা এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সেদেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সেদেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য। মার্কিন কোম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে কোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে। শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে। অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান। বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা। সম্মেলনে মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হতে পারে বলে জানিয়েছেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান। তাই সব দেশের প্রধানদের সঙ্গে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা দরকার।’ বিমসটেকের সম্মেলনে প্রথমদিন ইয়ুথ কনফারেন্সে যোগ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা। পর দিন সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সম্মেলনে তিনটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। বিমসটেক হলো ‘বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। বাংলায় বলা যায় ‘বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বহুখাতীয়, কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ’। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়েকটি দেশকে নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট। ১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে একটি নতুন আন্তঃআঞ্চলিক জোট সৃষ্টি করা হয় এবং সভায় অংশগ্রহণকারী মূল আলোচকদের দেশের নামের অদ্যাক্ষর অনুযায়ী এই জোটের নাম দেওয়া হয়।
জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একাধিকবার অপরাধ প্রমাণে তথ্য প্রমাণ মিলেছে খসড়া তদন্ত রিপোর্টে। পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চূড়ান্ত তালিকা পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তবে খসড়ার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।’ এদিকে, গত ২৭ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর জানান, ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুলে পাঁচ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ঈদের পর ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এর আগে গত ২ অক্টোবর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুলে গণহত্যা ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের গুলিতে দশম শ্রেণির ছাত্র আনাস হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়।
খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে ব্যাংক খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হয়েছে। এবার চ্যালেঞ্জ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। যেসব ব্যাংক একেবারে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, সেগুলো একীভূত করা হবে, বন্ধ হবে না। তবে দেশ থেকে পাচার করা অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা এখনও খোঁজা হচ্ছে। সম্প্রতি অনলাই নিউজ পোর্টাল সময় সংবাদের সঙ্গে একান্ত আলাপে এসব কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।ধীরে ধীরে মুক্ত হচ্ছে হাসিনা সরকারের আমলে জিম্মি হয়ে পড়া বাংলাদেশের ব্যাংক খাত। একই সঙ্গে চলছে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করার কার্যক্রম।এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। তিন মাসে বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। বাড়তে থাকা এই খেলাপী ঋণের লাগাম টানতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প দেখছেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত বোর্ডগুলো (ব্যাংকের পর্ষদ) ভেঙে দেয়া হয়েছে। যদি ব্যাংকের পর্ষদ ভালো হয়, বিনিয়োগ ভালো হয়, তাহলে ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’গভর্নর জানান, কোনো ব্যাংকই বন্ধ হবে না। তবে, গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো আইন মেনে একীভূত করা হবে। যেসব ব্যাংক কার্যকরভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারবে না, তাদেরকে অন্য সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে বন্ধ করা হবে না। এতে গ্রাহকের ভয়ের কিছু নেই।অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে এস আলম গ্রুপসহ ব্যাংক খাতে আধিপত্য বিস্তার করা কোম্পানির দাপটে পাচার হওয়া অর্থ কোথায় গিয়েছে তা খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার কর্মযজ্ঞও চলছে। ব্যাংক খাতের কোন তথ্যই গোপন করা হবে না বলেও জানান ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, কিভাবে টাকাগুলো বিদেশে পাচার করা হয়েছে সেটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনেকগুলো শনাক্তও করা হয়েছে। টাকা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বজনপ্রীতির শঙ্কা দেখা দিলেই তা ভেঙে দেয়ারও হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যাংকের পর্ষদ পরিবারগতভাবে গড়ে উঠলে বা সদস্যরা উপযুক্ত না হলে সেসব পর্ষদ ভেঙে দেয়া হবে।’
প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাতটি রাজ্য নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে মন্তব্য করেছেন তা নতুন কিছু না। ২০১২ সালেও একই মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তখন তো এতো আলোচনা-সমালোচনা হয়নি। শুধু তিনি নন, ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীও প্রায় একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।’ বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। খলিলুর রহমান বলেন, ‘ভারতের সেভেল সিস্টার নিয়ে চীনের যে কথাটা প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, এটি নতুন নয়। এর আগে ২০১২ সালেও একই কথা তিনি বলেছিলেন। এর চাইতে এগিয়ে গিয়ে ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লিতে দাঁড়িয়ে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স ও বাংলাদেশ একটা ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করার কথা বলেন। তিনি এই প্রসঙ্গে সিঙ্গেল ইকোনমি জোনের কথাও বলেছিলেন।’ প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ বলেন, ‘কানেকটিভি এ অঞ্চলের সম্ভাবনা দুয়ার খুলে দেবে। যাদের জন্য সমুদ্রে এক্সেস পাওয়াটা কঠিন তাদের জন্য আরো বেশি। আমরা কিন্তু জোর করে কারও ওপর কানেকটিভি চাপিয়ে দেবো না। সে সুযোগও আমাদের নেই। কেউ যদি সেই সুযোগ নেয় ভাল কথা। প্রধান উপদেষ্টা সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্যে এ কথা বলেছেন। এখন যদি কেউ অন্য কোন ব্যাখ্যা দেন তাহলে তো কিছু করা নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, সবার ভালো উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেছিলেন।’ এর আগে চীন সফরে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ‘সেভেন সিস্টার্স’ খ্যাত সাতটি রাজ্যের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ভারতের পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত সাতটি রাজ্য। এই রাজ্যগুলো ভারতের স্থলবেষ্টিত অঞ্চল। সমুদ্রে পৌঁছানোর জন্য তাদের যোগাযোগের কোনও উপায় নেই। এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘এটি বিশাল এক সম্ভাবনা উন্মোচন করে। এটি চীনা অর্থনীতির একটি সম্প্রসারণ হতে পারে।’ তার মন্তব্য নিয়ে ভারতের রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা ও নীতিনির্ধারকদের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত দিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রতিক্রিয়া না জানালেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলু রহমান বলেন, ‘আমাদের এ অঞ্চলে কানেকটিভি ছাড়া এগোনো সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিকভাবে যে অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা যাচ্ছে তার মোকাবিলা করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ বা কানেকটিভিটি থাকতে হবে। জোটবদ্ধভাবে যেটা মোকাবিলা করা সম্ভব সেটি একক কারও পক্ষে করা সম্ভব না, সেই সম্ভাবনার কথাই বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা হাজার হাজার কোটি অবৈধ টাকার মালিক। তাদের অবৈধ টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।’ বুধবার (২ এপ্রিল) নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনও উত্থান ঘটেনি। বরং বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনও ছোবল নেই, মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মপালন করছে, কথা বলতে পারছে। নির্ভয়ে ঈদ পালন করেছে, ফ্যাসিবাদের দৌরাত্ম ছিল না। বিগত দিনে কেউ স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। শেখ হাসিনার আমলে যা সম্ভব ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অপতথ্য ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা। শেখ হাসিনা জঙ্গি দমনের নামে যে নাটক করেছেন সেটা তিনি বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন। এটা ক্ষমতায় টিকে থাকতে তার রাজনৈতিক কৌশল ছিল। একজন সাবেক আইজিপির বইয়েও তা ওঠে এসেছে।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বসে নেই। কালো টাকা খরচ করছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে। আওয়ামী লীগ অবৈধ টাকা অর্জন করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আওয়ামী লীগ অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড করছে।’ বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার নির্দেশে যেভাবে মুগ্ধ ফাইয়াজদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে তার কোনও বক্তব্যে অনুতপ্ততা নেই। অস্থিরতা তৈরি করতে দেশকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রশাসনের চারদিকে আওয়ামী লীগের দোসররা বসে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিছু উপদেষ্টা বিএনপির বিরুদ্ধে বিষােদগার করছেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন। একজন উপদেষ্টা ২০০৭ সালেও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি এবারও তা করছেন। মেহেরপুরে পেঁয়াজের দাম না পেয়ে একজন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। উপদেষ্টারা সেগুলো নিয়ে কথা বলছেন না। তারা সিন্ডিকেট ভেঙে দিলে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মজুরি পেত।’ গত দুই দিনে সড়কে ২০-২৫ জন প্রাণ হারিয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘প্রশাসন শক্তভাবে কাজ করলে এতো লোক সড়কে প্রাণ হারাতো না।’ নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ স্পষ্ট না করলে ধোঁয়াশা তৈরি হবে।’ ড. ইউনূসকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন, যাকে ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে অনেক দেশ। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। এতদিন দেশটিতে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল। বাংলাদেশের প্রধান দুই রপ্তানি বাজারের একটি যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকের একটি বড় অংশ রপ্তানি হয় দেশটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রায় এই শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে উপস্থিত সাংবাদিকসহ সমবেতদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই ট্রাম্প বলেন, ‘আজ খুব ভালো খবর’ থাকবে। এ সময় দর্শক সারি থেকে করতালি দিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানানো হয়। কোন দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, আর পাল্টায় তিনি কত শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন সেই তালিকা তুলে ধরছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই দিনকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করেন ট্রাম্প। নতুন শুল্ক আরোপকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হিসেবে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প বলেন, এই দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করছে। ট্রাম্পের পাল্টা এই শুল্ক আরোপে ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে। অন্যান্য যেসব দেশের পণ্যের ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাল্টা এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প বলেছেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কখনো কখনো ‘বন্ধু শত্রুর চেয়ে খারাপ হয়’। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের বিদেশি গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় যেসব গাড়ি উৎপাদন করা হয় তার ৮০ শতাংশের বেশি সেদেশে বিক্রি হয়। আর জাপানে যেসব গাড়ি বিক্রি হয় সেগুলোর ৯০ শতাংশের বেশি সেদেশে তৈরি হয়। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি বিক্রি হয় খুব সামান্য। মার্কিন কোম্পানি ফোর্ড অন্যান্য দেশে খুব কম গাড়ি বিক্রি করে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অন্য যে কোনো দেশে তৈরি মোটরযানের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হবে এবং এটা আজ মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হবে। শুল্ক আরোপের ঘোষণাকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতিফলন উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আজকের দিনকে আমেরিকান শিল্পের ‘পুনর্জন্ম’ এবং আমেরিকাকে ‘আবার সম্পদশালী’ করার দিন হিসেবে স্মরণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য বাধার মুখে রয়েছে। অন্যান্য দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা আরও খারাপ অবস্থা তৈরি করেছে। বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসত্ত চুরিসহ অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগ করেছেন তিনি।
খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে ব্যাংক খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া হয়েছে। এবার চ্যালেঞ্জ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। যেসব ব্যাংক একেবারে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না, সেগুলো একীভূত করা হবে, বন্ধ হবে না। তবে দেশ থেকে পাচার করা অর্থ কোথায় গিয়েছে, তা এখনও খোঁজা হচ্ছে। সম্প্রতি অনলাই নিউজ পোর্টাল সময় সংবাদের সঙ্গে একান্ত আলাপে এসব কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।ধীরে ধীরে মুক্ত হচ্ছে হাসিনা সরকারের আমলে জিম্মি হয়ে পড়া বাংলাদেশের ব্যাংক খাত। একই সঙ্গে চলছে গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক করার কার্যক্রম।এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫ হাজার ৭৩ কোটি টাকা। তিন মাসে বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। বাড়তে থাকা এই খেলাপী ঋণের লাগাম টানতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিকল্প দেখছেন না কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর।তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত বোর্ডগুলো (ব্যাংকের পর্ষদ) ভেঙে দেয়া হয়েছে। যদি ব্যাংকের পর্ষদ ভালো হয়, বিনিয়োগ ভালো হয়, তাহলে ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’গভর্নর জানান, কোনো ব্যাংকই বন্ধ হবে না। তবে, গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা দিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো আইন মেনে একীভূত করা হবে। যেসব ব্যাংক কার্যকরভাবে কাজ সম্পাদন করতে পারবে না, তাদেরকে অন্য সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে বন্ধ করা হবে না। এতে গ্রাহকের ভয়ের কিছু নেই।অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে এস আলম গ্রুপসহ ব্যাংক খাতে আধিপত্য বিস্তার করা কোম্পানির দাপটে পাচার হওয়া অর্থ কোথায় গিয়েছে তা খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনার কর্মযজ্ঞও চলছে। ব্যাংক খাতের কোন তথ্যই গোপন করা হবে না বলেও জানান ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, কিভাবে টাকাগুলো বিদেশে পাচার করা হয়েছে সেটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অনেকগুলো শনাক্তও করা হয়েছে। টাকা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।কোনো ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে স্বজনপ্রীতির শঙ্কা দেখা দিলেই তা ভেঙে দেয়ারও হুঁশিয়ারি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যাংকের পর্ষদ পরিবারগতভাবে গড়ে উঠলে বা সদস্যরা উপযুক্ত না হলে সেসব পর্ষদ ভেঙে দেয়া হবে।’