
বাড়ির পাশে আড্ডা দিলেন শাওন, তিন মোটরসাইলে এসে হঠাৎ গুলি
খুলনায় চাঁদরাতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে শাওন নামের যুবক আহত হয়েছেন। আজ রোববার (৩০ মার্চ) রাত পৌ...
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি। যেহেতু এটি আলোচনাযোগ্য, তাই আমরা আলোচনা করবো এবং আমি নিশ্চিত, আমরা সর্বোত্তম সমাধানে পৌঁছাতে পারবো।’ বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘এখনও পুরো বিষয়টি আলোচনা শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। আমরা এটা পর্যালোচনা করছি এবং আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, তাতে আশাবাদী সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আমরা এমন একটা সমাধানের দিকে যেতে পারবো, যাতে দুপক্ষের জন্য উইন উইন সিচুয়েশন হয়।’ প্রেস সচিব দূঢ় আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এমন কিছু করবো যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ উভয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। এ লক্ষে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে।’ এর আগে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে শফিকুল আলম বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার বাড়ানোর বিষয়ে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে লেখেন, ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে। এসব শুল্ক আরও যুক্তিসংগত করার উপায় খুঁজে বের করতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা শুল্কবিষয়ক জটিলতা নিরসনে প্রয়োজন।’ প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আমাদের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষে একসঙ্গে কাজ করে আসছি।’ শফিকুল আলম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের চলমান কার্যক্রম শুল্ক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: বাসস
বিমসটেক সম্মেলন উপলক্ষে থাইল্যান্ড সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিমসটেক হলো বে অফ বেঙ্গলকে ঘিরে আঞ্চলিক একটি গ্রুপ। দুই দশক পেরিয়ে গেলেও বিমসটেক কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। প্রধান উপদেষ্টা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে শক্তিশালী করার ব্যাপারে জোর দেবেন। শফিকুল আলম বলেন, ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন আঞ্চলিক বিভিন্ন গ্রুপ সার্ক ও বিমসটেক যে করেই হোক পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। যেন আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ঘটানো যায়। দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে ব্যাংকক পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। এদিন সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি। সফরের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার ড. ইউনূস সম্মেলনের ইয়ুথ কনফারেন্সে যোগ দেবেন। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার তিনি সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তার।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রার মধ্যে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ব্যাংককের একটি হোটেলে বিমসটেক সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক নৈশভোজে তাদের সাক্ষাৎ হয়। এসময় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন শিনাওয়াত্রা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছবি তোলেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী (এমএসডিএইচএস) বরাওয়ুত সিলপা-আর্চা এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংযুক্ত মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই। সাক্ষাৎকালে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তারা। দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে ব্যাংকক পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা। এদিন সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন তিনি। সফরের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার ড. ইউনূস সম্মেলনের ইয়ুথ কনফারেন্সে যোগ দেবেন। দ্বিতীয় দিন শুক্রবার তিনি সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক ইয়ং জেনারেশন ফোরামে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা কী-নোট স্পিকার ছিলেন। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই কেবল টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। এই প্রজন্মের তরুণরা পৃথিবীর যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী প্রজন্ম অভিহিত করে অধ্যাপক ইউনূস তাদেরকে শুরুতে বা ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা চালু করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, শুরুতে বড় পরিসরে ব্যবসা চালু করা ভুল পথ। তুমি একবারে রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। তাই ছোট পরিসরে শুরু করে পরিবর্তনের সূচনা কর। তিনি সবার জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে তরুণদের সামাজিক ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার আহবান জানান। ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনে বিমসটেকভুক্ত বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। সূত্র: বাসস
রাজধানী ঢাকার গুলশান কালাচাঁদপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে নিলয় গায়েন (২৮) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পেশায় একজন ফুডপান্ডার রাইডার ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ। তিনি জানান, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে গুলশান কালাচাঁদপুরের একটি মেসের রুম থেকে নিলয় গায়েনে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসআই রাজু আহমেদ বলেন, মৃতের গলায় ফাঁস রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিলয় গায়েন গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর উপজেলার চাওচা গ্রামের মৃত নিখিল গায়েনের ছেলে। তিনি গুলশান কালাচাঁদপুরের ওই মেসে ভাড়া থাকতেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা হাজার হাজার কোটি অবৈধ টাকার মালিক। তাদের অবৈধ টাকা ব্যবহার করে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।’ বুধবার (২ এপ্রিল) নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনও উত্থান ঘটেনি। বরং বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনও ছোবল নেই, মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মপালন করছে, কথা বলতে পারছে। নির্ভয়ে ঈদ পালন করেছে, ফ্যাসিবাদের দৌরাত্ম ছিল না। বিগত দিনে কেউ স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। শেখ হাসিনার আমলে যা সম্ভব ছিল না।’ তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অপতথ্য ছড়াচ্ছে আওয়ামী লীগের দোসররা। শেখ হাসিনা জঙ্গি দমনের নামে যে নাটক করেছেন সেটা তিনি বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন। এটা ক্ষমতায় টিকে থাকতে তার রাজনৈতিক কৌশল ছিল। একজন সাবেক আইজিপির বইয়েও তা ওঠে এসেছে।’ রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বসে নেই। কালো টাকা খরচ করছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে। আওয়ামী লীগ অবৈধ টাকা অর্জন করে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। আওয়ামী লীগ অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড করছে।’ বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার নির্দেশে যেভাবে মুগ্ধ ফাইয়াজদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে তার কোনও বক্তব্যে অনুতপ্ততা নেই। অস্থিরতা তৈরি করতে দেশকে ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন বিদেশে পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের নেতারা। প্রশাসনের চারদিকে আওয়ামী লীগের দোসররা বসে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিছু উপদেষ্টা বিএনপির বিরুদ্ধে বিষােদগার করছেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছেন। একজন উপদেষ্টা ২০০৭ সালেও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিলেন। তিনি এবারও তা করছেন। মেহেরপুরে পেঁয়াজের দাম না পেয়ে একজন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। উপদেষ্টারা সেগুলো নিয়ে কথা বলছেন না। তারা সিন্ডিকেট ভেঙে দিলে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মজুরি পেত।’ গত দুই দিনে সড়কে ২০-২৫ জন প্রাণ হারিয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘প্রশাসন শক্তভাবে কাজ করলে এতো লোক সড়কে প্রাণ হারাতো না।’ নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ স্পষ্ট না করলে ধোঁয়াশা তৈরি হবে।’ ড. ইউনূসকে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডিওজিই) দায়িত্ব ছাড়ার পরও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে যাবেন ইলন মাস্ক। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন এই ধনকুবের। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ভ্যান্স। গতকাল বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এবং সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলেছেন, মাস্ক শিগগিরই কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এখন তিনি তাঁর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজে ফিরে যাবেন। গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর সরকারি দক্ষতা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন ট্রাম্প। প্রাথমিকভাবে ১৩০ দিনের জন্য ওই বিভাগে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মাস্ককে। মে মাসের শেষের দিকে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তবে মেয়াদ শেষের আগেই মাস্ক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন কি না, তা পলিটিকো ও এবিসির প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেন, ‘ডিওজিইর করার মতো অনেক কাজ আছে। ইলন চলে যাওয়ার পরও এসব কাজ অব্যাহত থাকবে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমি ও প্রেসিডেন্ট—দুজনেরই বন্ধু এবং উপদেষ্টা হিসেবে থেকে যাচ্ছেন ইলন।’ পলিটিকোর প্রতিবেদন বলা হয়েছে, মাস্কের চঞ্চল মনোভাবের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতর ও বাইরের অনেকে তাঁকে অপছন্দ করা শুরু করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লা ভারী হতে থাকে। অন্যদিকে বিশ্বের শীর্ষ এই ধনীকে সম্পদের পরিবর্তে রাজনৈতিক দায় হিসেবে দেখতে শুরু করেন ট্রাম্পের দলের রাজনীতিবিদেরা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অপ্রত্যাশিতভাবে কর বৃদ্ধি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরপর প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পূর্বাভাস দেওয়া হয়, বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবা থেকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় সম্ভব। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চায়, আগামী অর্থবছরে কর ছাড় কমিয়ে ও করের হার বাড়িয়ে সরকার অতিরিক্ত ৫৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করুক। এ অবস্থায় এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত এ রাজস্ব সংগ্রহ করা না গেলে আইএমএফের ঋণের চতুর্থ কিস্তি যা ইতোমধ্যে মার্চ থেকে বিলম্বিত হয়েছে এবং আসন্ন পঞ্চম কিস্তি পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তারা আরও বলেন, আইএমএফ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের দাবিগুলো জানায়নি। তবে শনিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকায় সংস্থাটির প্রতিনিধি দল আসার পর আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শর্ত উপস্থাপন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, জানুয়ারির কর বৃদ্ধির ধাক্কা এখনও পুরোপুরি সামলানো যায়নি। তাছাড়া সব কর ছাড় একসঙ্গে বাতিল করাও সম্ভব নয়। এনবিআরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে কিছু কর ছাড় পুরোপুরি তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য কিছু কর ছাড় বিশেষ করে আয়করের ক্ষেত্রে বাতিল করা যেতে পারে। তবে, তা রাজস্ব আদায়ে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এনবিআরের ওই কর্মকর্তা বলেন, আবার শুধু কর বাড়ালেই রাজস্ব বাড়বে না। কর ফাঁকি রোধ, করজালের সম্প্রসারণ এবং করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য অটোমেশন ব্যবস্থা উন্নয়ন করাও জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে সরকার যদি আইএমএফের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের চেষ্টা করে, তাহলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হবে জানিয়ে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, আদতে শুধু কর বাড়িয়ে বা ছাড় কমিয়ে এত বড় অঙ্কের রাজস্ব আদায় করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, অতীতে অনেক দেশ আইএমএফের শর্ত মেনে চলতে গিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। তাই বাংলাদেশকে নিজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে অর্থনীতি পরিচালনার পরিকল্পনা নিতে হবে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, আইএমএফ যদি ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখে, তাহলে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক দাতাসংস্থাগুলোও তাদের বাজেট সহায়তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বসতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের শুরুতে স্বাক্ষরিত ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তির অংশ হিসেবে আইএমএফ ৩০টিরও বেশি সংস্কারের শর্ত দিয়েছে, যার মধ্যে বার্ষিক রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত। তবে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি জানুয়ারিতে ভ্যাট ও কর বৃদ্ধির পরও রাজস্ব আদায় প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধের কারণে চতুর্থ ঋণের কিস্তি ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশ আগামী জুন মাসে দুটি কিস্তি পাওয়ার আশা করছে। তার আগে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের অগ্রগতি মূল্যায়ন করতে শনিবার (৫ এপ্রিল) ঢাকা সফর করবে। এ সময় প্রতিনিধিদলটি অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং পরদিন এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক বসবে।