
স্পেনভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিমাগো ইনস্টিটিউশন ২০২৬ সালের বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। এবারের তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ১০ হাজার ৮২৭টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সার্বিক র্যাঙ্কিংয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) যৌথভাবে ৬ষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে।
গবেষণা সূচকে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেছে। প্রথম স্থানে আন্তর্জাতিক ডায়ারিয়াল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টার (আইসিডিডিআর) বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেবে প্রথম বেরোবি। গত বছর গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান ছিল ১০ম।
র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট ৪৭টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবারের তালিকায় স্থান পেয়েছে। সার্বিকভাবে গত বছর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিল ২২তম। ২০২৪ সালে ছিল ১৮তম। এবার ১৬ ধাপ এগিয়ে ৬ষ্ঠ স্থানে।
গবেষণা, সামাজিক প্রভাব এবং উদ্ভাবন—এই তিনটি সূচকের ভিত্তিতে সিমাগো র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়। সার্বিক মূল্যায়নে গবেষণাকে ৫০ শতাংশ, উদ্ভাবনকে ৩০ শতাংশ এবং সামাজিক প্রভাবকে ২০ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সিমাগো ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং ২০২৬ অনুযায়ী, গবেষণা, সামাজিক প্রভাব ও উদ্ভাবন সূচকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেশে যথাক্রমে ২য়, ১৩তম ও ৪৭তম। এই তিন সূচকের সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান দেশে ৬ষ্ঠ।
র্যাঙ্কিং অনুযায়ী ২০২৬ সালে দেশের সেরা দশ বিশ্ববিদ্যালয় হলো—মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এ বিষয়ে বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, গবেষণা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ভিত্তি। বর্তমান প্রশাসন গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি গবেষণামুখী হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ অনুদান দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ডিনস অ্যাওয়ার্ড ও মেরিট অ্যাওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। আগে গবেষণা সেমিনারগুলো অনলাইনে হলেও এখন সেগুলো সরাসরি আয়োজন করা হচ্ছে।
এছাড়া শিক্ষকদের গবেষণা অনুদানের ক্ষেত্রে প্রকাশনা দেখা হচ্ছে। এতে তাদের গবেষণা বাড়াতে ও গবেষণা অনুপ্রাণিত করতে আরও সাহায্য করবে।