
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত প্রমীলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলাকালে এক নারী শিক্ষার্থীকে স্লেজিং ও সহপাঠীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রিকেট মাঠে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাথে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের নারী দলের ক্রিকেট ম্যাচে এ ঘটনা ঘটে। পরে টিম কোচ ও অধিনায়কের স্বাক্ষরসহ ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক নারী খেলোয়াড় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বল করার সময় পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দর্শকদের পক্ষ থেকে তিনি অকথ্য স্লেজিং, বুলিং ও হ্যারাসমেন্টের শিকার হন। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মতিউর, মিঠুসহ কয়েকজন তাকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় বুলিং, বডি শেমিং, ইভটিজিং ও ফিমেল হ্যারাসমেন্ট করেন। এক পর্যায়ে উচ্চস্বরে বলা হয়, আম্পায়ারের বোলারকে পছন্দ হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের মতিউর নামের ওই শিক্ষার্থী তাকে মারতে তেড়ে আসে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তার টিমমেট ও সহপাঠীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা হামলা চালায় এবং কয়েকজন আহত হন।
খেলা পুনরায় শুরু করা যাবে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলাকালে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকের মামলার কথা শুনে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক বকুল কুমার চক্রবর্তী ক্ষিপ্ত হয়ে স্ট্যাম্প তুলে মাঠে ছুড়ে ফেলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান পালটা অভিযোগ করে বলেন, যে অভিযোগগুলো করেছে এগুলোর একটা ঘটনাও সত্য না। আমরা কৃষ্ণচূড়া রোডের সারিতে ছিলাম এবং আমাদের সামনে আমাদের ডিপার্টমেন্টের দর্শক নারী শিক্ষার্থীরাও ছিল। আমাদের মেয়েদের সামনে কেমনে আমরা অন্য মেয়েদের বডি শেমিং করতে পারি। এটা একটা ভিত্তিহীন অভিযোগ। ওখানে পদার্থবিজ্ঞান ছাড়া অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও ছিল, তারাও সাক্ষী দিতে পারবে আসলে ঘটনা কী।
মতিউর জানান, আমার ওপর তেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে অথচ ভিডিও ফুটেজেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আমরা আমাদের পাশেই ছিলাম এবং তাদের বোলার এবং আরও দুইজন আমার ওপরেই তেড়ে গিয়েছিল আমাকে মারতে। আমাকে টোকাই বলে চড় থাপ্পড় মারার জন্য যেভাবে গিয়েছিল আমি যথেষ্ট ভদ্রতা এবং ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি, এজন্যই তাদের দিকে তাকাইও নাই। অথচ এত কিছুর পরে যেগুলো আমরা করিনি সেগুলোই আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। চাইলে আমরাও অভিযোগ করতে পারতাম কিন্তু তাদের ডিপার্টমেন্টেও আমাদের অনেক ভাই এবং বন্ধুরা আছে এবং ভালো সম্পর্ক, এজন্য আমরা অভিযোগ করিনি। আমাদের ইনটেনশন ছিল ২-৪ দিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। তারা যেগুলো অভিযোগ করেছে সেগুলো তারাই ঘটিয়েছে। আমাদের কাছে প্রমাণ আছে ওদের ছেলেদের হাতে লাঠি, স্ট্যাম্প, গাছের ডাল ছিল। আমরা ডিপার্টমেন্টে যাচ্ছি আমরাও অভিযোগ দিব।
স্ট্যাম্প তুলে মাঠে ছুড়ে ফেলার বিষয়ে অভিযুক্ত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. বকুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি খেলাটি চালানো হোক এবং খেলাটি সুন্দরভাবে শেষ করা হোক। সবাই আমাদের শিক্ষার্থী। কিন্তু আলোচনার মধ্যে যখন ওই ডিপার্টমেন্টের (ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ) শিক্ষক এমন চিন্তাভাবনা করে এবং দাবি তুলে আমাদের শিক্ষার্থীর ওপর ফিমেল হ্যারাসমেন্টের মামলা করতে হবে এবং ইনস্ট্যান্ট দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করতে হবে। সেই প্রেক্ষাপটে আমি স্ট্যাম্প তুলে মাঠে ছুড়ে ফেলি।
এ বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের নারী দলের অধিনায়ক এশরাত উন নিগার এনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ফিমেল হ্যারাসমেন্ট, বডি শেমিং ও ইভটিজিংয়ের বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমরা একটি অভিযোগপত্র পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ১৯ এপ্রিল ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বনাম পদার্থবিজ্ঞান খেলার সময় দুই দলের মধ্যেই স্লেজিং চলতে থাকে। এমতাবস্থায় ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় ও দর্শকসারির দর্শকরা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ভেন্যুর দিকে তেড়ে আসে ও তাদের ওপর মারমুখী হয়।