
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীদের আবাসিক হল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের দাবিতে সরব হয়েছেন একদল শিক্ষার্থী। হল ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা, বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের সব ছাত্রী হলে প্রবেশের সুযোগ এবং পরিবারের নারী সদস্যদের হল কক্ষ পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতিসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন
সোমবার (২৭ জুলাই) ‘বৈষম্যহীন নারী হল চাই’ ব্যানারের অধীনে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (জেসিডি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কয়েকজন নারী নেত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গবেষণা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ টনি এবং সদস্য হেমা চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে জড়ো হন। পরে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার আগে তারা দাবিগুলোর পক্ষে শিক্ষার্থীদের মতামত, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।
স্মারকলিপিতে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—ছাত্রী হলের বর্তমান সান্ধ্যকালীন ‘কারফিউ’ বা নির্ধারিত সময়সীমা বাতিল করে ২৪ ঘণ্টা প্রবেশ ও বের হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা; বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের যেকোনো ছাত্রী হলে প্রবেশ এবং পূর্বানুমতি সাপেক্ষে সেখানে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়া; এবং ছাত্রীদের পরিবারের নারী সদস্যদের হল কক্ষ পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া।
দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে শিক্ষার্থীরা বলেন, পড়াশোনা, গবেষণা, জরুরি চিকিৎসা, সাংগঠনিক দায়িত্ব, পারিবারিক প্রয়োজন কিংবা অন্যান্য জরুরি কারণে অনেক সময় গভীর রাতেও হলে আসা-যাওয়ার প্রয়োজন হয়। তাই তারা শুধু কারফিউর সময় বাড়ানোর নয়, বরং সব ছাত্রী হলে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর ২৪ ঘণ্টার প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কেবল সংশ্লিষ্ট হলের আবাসিক ছাত্রীরাই নিজ নিজ হলে প্রবেশ করতে পারেন। একই সঙ্গে কোনো হলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও সেখানে বসবাস না করা শিক্ষার্থীদের সাধারণত প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। এছাড়া রাত ১০টার দিকে হলের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ের পর হলে ফিরতে হলে হল কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হয়।