
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং এর নিচে বাংলা ভাষা বিরোধিতার ইতিহাস তুলে ধরাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংগ্রহশালায় হামলা ও ভাঙচুরের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ এ প্রদর্শনীর পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে এস এম ফরহাদ বলেন, মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সরাসরি বাংলা ভাষার বিরোধিতা করেছিলেন এবং এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন—এই ঐতিহাসিক বিষয়টি সংগ্রহশালায় ব্যাকগ্রাউন্ড ও ক্যাপশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে জিন্নাহর ওই অবস্থান তুলে ধরাই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানের পরই মূলত বাঙালির মহান ভাষা আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। তাই সেই ইতিহাস সংগ্রহশালায় তুলে ধরা প্রয়োজন ছিল।
ডাকসুর জিএস আরও বলেন, জিন্নাহর ছবি ও সংশ্লিষ্ট ইতিহাস প্রদর্শন না করা হলে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলতে পারতেন যে, তার বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থান ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হচ্ছে এবং তাকে দায়মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।
জিন্নাহর ছবি সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে ছাত্রদলের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম নিয়েও সমালোচনা করেন এস এম ফরহাদ। তিনি দাবি করেন, বিবৃতিতে জিন্নাহর বিরোধিতা করার কথা বলা হলেও কার্যত ছাত্রদল তার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে এবং তাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। তার মতে, হয় তারা এই ইতিহাস সম্পর্কে অবগত নয়, অথবা জিন্নাহর ভূমিকা সম্পর্কে জেনেও তা মানুষের সামনে তুলে ধরতে চাইছে না।
দীর্ঘ সংস্কারকাজ শেষে গত রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেখানে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি প্রদর্শন করা হয়। ছবিগুলোর নিচে বাংলা ভাষার বিরোধিতায় তার অবস্থান তুলে ধরে ঐতিহাসিক ক্যাপশনও যুক্ত করা হয়।
সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে সংগ্রহশালায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।