
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে এবার আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে যাচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বোচ্চ ২৯ দশমিক ৭৯৫ ডলার দরে কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ০৩ ডলার এবং ২৪ আগস্ট ২৪ দশমিক ৬৩ ডলার দরে এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ তিন সপ্তাহের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য বেড়েছে প্রায় ৫ দশমিক ১৭ ডলার।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৪৪তম সভায় এলএনজি কেনার প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় অর্থ মন্ত্রণালয়।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মোট তিনটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় দুই কার্গো এবং সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় চার কার্গোসহ মোট ছয় কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় ৫২তম ও ৫৬তম কার্গো কেনার জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়েছে। ৯ থেকে ১০ অক্টোবর সরবরাহের জন্য ৫২তম কার্গোতে যুক্তরাজ্যের টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের দর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ দশমিক ৯৫ ডলার।
আর ২৭ থেকে ২৮ অক্টোবর সরবরাহের জন্য ৫৬তম কার্গোতে সিঙ্গাপুরের ভিটাল এশিয়া পিটিই লিমিটেডের দর প্রতি এমএমবিটিইউ ২৯ দশমিক ৭৯৫ ডলার।
এদিকে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ডারাব ইনকরপোরেটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ দর ১৭ ডলার। একই প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মাইন্ড মিঙ্গল এলএলসি থেকে আরও দুই কার্গো কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার দর প্রতি এমএমবিটিইউ ১৯ ডলার।
সরকারি নথি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজির ক্রয়মূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত ২৪ আগস্ট প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪ দশমিক ৬৩ ডলার এবং ২ সেপ্টেম্বর ২৮ দশমিক ০৩ ডলার দরে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এবার সর্বোচ্চ দর দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৭৯৫ ডলারে।
অন্যদিকে, গত বছরের ডিসেম্বরেও সরকার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সাড়ে ১০ ডলারের নিচে দরে কিনতে পেরেছিল। সে হিসাবে কয়েক মাসের ব্যবধানে এলএনজির ক্রয়মূল্য প্রায় তিন গুণের কাছাকাছি বেড়েছে।