
রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী মাজারে জিয়ারতকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে শাহ আলী থানা পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল, মো. আজম ও মো. আরমান দেওয়ান। তাদের মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তারা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বলে জানা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর আহত রেশমি বেগম বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দিবাগত রাতে মাজার প্রাঙ্গণে ওরস উপলক্ষে বিপুল মানুষের উপস্থিতির মধ্যে একদল হামলাকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এ সময় মাজারের বিভিন্ন সামগ্রী নষ্ট করা হয় এবং বাধা দিতে গেলে নারী ভক্ত রেশমি বেগমকে মারধরের পাশাপাশি শ্লীলতাহানির অভিযোগও তোলা হয়।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় জিয়ারতকারীদের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং মাজারের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। শনিবার দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শাহ আলী মাজার এলাকা পরিদর্শন করে। পরে তারা আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।
সারোয়ার তুষার বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মাজার ও সুফি স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে গত দুই বছরে মাজারগুলোতে সংঘটিত হামলার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানান এনসিপির এই নেতা।