
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও অসম্পূর্ণ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবার রাজপথে নেমে এসেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তিন দফা দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধের পর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে রওনা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে তাদের আটকে দেয় পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থাকায় চরম সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এমনকি মোতায়েন করা হয়েছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ভিসি চত্বরে উত্তেজনা ও ছাত্রদলের মধ্যস্থতার চেষ্টা
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পরীক্ষার্থীরা দলে দলে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন। এরপর তারা শিক্ষা ভবনের অভিমুখে অগ্রসর হতে চাইলে ভিসি চত্বরে পুলিশ তাদের পথ রোধ করে দাঁড়ায়। এ সময় সেখানে এক অবরুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। এই আলোচনার সুবিধার্থে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করার আহ্বান জানান তিনি এবং নিজে থেকে তাদের সাথে নিয়ে সরকারের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পুনরায় মিছিল গুছিয়ে ইডেন কলেজের সামনে দিয়ে শিক্ষা ভবনের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন।
যেসব কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন
রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই বিক্ষোভে শরিক হন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ঢাকা সিটি কলেজ
কবি নজরুল সরকারি কলেজ
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ
উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
মাইলস্টোন কলেজ
ঢাকা কমার্স কলেজ
ঢাকা ওরিয়েন্টাল কলেজ
হামদর্দ পাবলিক কলেজ
সিদ্ধেশ্বরী কলেজ
পরীক্ষার্থীদের ৩ দফা দাবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মূলত তিনটি প্রধান দাবি সামনে এনেছেন। দাবিগুলো হলো:
১. বৈরী আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক রূপ না নেওয়া পর্যন্ত চলমান এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা।
২. প্রতিকূল আবহাওয়ার শিকার হয়ে গত ১৩ জুলাই যেসব পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা করা।
৩. আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, চরম বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা চালু রাখায় অনেক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ছিল। এছাড়া, অনেক প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা গ্রহণ শুরু করায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত প্রস্তুতি নিতে পারেননি এবং পরীক্ষায় আশানুরূপ পারফর্ম করতে ব্যর্থ হয়েছেন।