
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সন্তোষ ভবনের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে টিনশেড ঘরের চালে পড়ে প্রাণে বেঁচেছেন এক শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত না হলেও তাঁর একটি পা ফুলে গেছে এবং মাথায় সামান্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশে রয়েছেন। তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলছেন। চিকিৎসায় যুক্ত এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর শরীরে বড় ধরনের কোনো শারীরিক ক্ষতি পাওয়া যায়নি।
জগন্নাথ হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পল্লব বর্মন জানান, ওই শিক্ষার্থীর এক্স-রে, ইসিজি ও এমআরআইসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পরীক্ষার ফলাফল ভালো এসেছে এবং কোথাও হাড় ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাঁকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
হলের কর্মচারীরা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাঁরা বাইরে বের হন। পরে ভবনের পাশের টিনশেড ঘরের চালে ওই শিক্ষার্থীকে পড়ে থাকতে দেখেন। কয়েকজন কর্মচারী ও শিক্ষার্থী মিলে তাঁকে সেখান থেকে নামিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। টিনের চালে পড়ার কারণেই বড় ধরনের আঘাত থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছেন বলে ধারণা তাঁদের।
কেন ওই শিক্ষার্থী এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে কয়েকজন সহপাঠী জানিয়েছেন, তিনি কিছুদিন ধরে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মানসিক চাপে ছিলেন।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল বলেন, ব্যক্তিগত কিছু কারণ ও মানসিক চাপ থেকে ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে তাঁরা প্রাথমিকভাবে শুনেছেন। শিক্ষার্থী পুরোপুরি সুস্থ হলে তাঁর কাছ থেকেই বিস্তারিত ঘটনা জানা যাবে। বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসন খোঁজখবর নিচ্ছে।