
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব এলাকায় প্রায় ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কারখানার সামনে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে তিনি জানান, দিনের বিভিন্ন সময়ে সাভার, আশুলিয়া ও আশপাশের এলাকায় ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সকালে সাভারের অধিকাংশ পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। পাঁচটি কারখানার শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান নেন। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কারখানার শ্রমিক সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আশুলিয়ার নরসিংহপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্পাঞ্চল পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে দেন। বিভিন্ন দাবিতে তাঁরা কারখানার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
বেলা পৌনে ১১টার দিকে নরসিংহপুরে শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা। বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন তাঁরা। এ সময় শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক ছেড়ে এক পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে শারমিন গ্রুপের শ্রমিকদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতির মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই এলাকায় হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপসহ আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানাও বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি দেওয়ার কথা জানায় শিল্পাঞ্চল পুলিশ।
অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর এলাকায় করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাঁদের বিক্ষোভের জেরে আশপাশের বিভিন্ন কারখানায়ও ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকার ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গুদামেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
শ্রমিক আন্দোলনের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যেতে বাধার মুখে পড়ে ফায়ার সার্ভিস। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম জানান, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল কারখানার গুদামে আগুন দেওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।