চীনের বিনিয়োগে দেশে হবে বিশেষায়িত হাসপাতাল

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘চীনের বিনিয়োগে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মিত হবে। বিশেষায়িত একটি হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানালে চীন রাজি হয়। খুব শিগগিরই বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে।’ আজ রোববার (৩০ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার রোগী প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে দেশে কেন আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মিত হচ্ছে না, একজন গণমাধ্যমকর্মীর এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি কুনমিং যান। সেখানে চীনের কো-অপারেশন মিনিস্টারের সঙ্গে তার কথা হয়। ওই সময় বাংলাদেশের রোগীদের সূচিকিৎসার্থে সেখানকার কয়েকটি হাসপাতাল চিহ্নিত করা যায় কি না সে ব্যাপারে তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল।’ ‘অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে তারা অতি দ্রুত বাংলাদেশিদের চিকিৎসার জন্য চারটি হাসপাতাল ঠিক করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই চারটি হাসপাতালের একটি ফার্স্ট পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ থেকে একটি দল চিকিৎসা গ্রহণের জন্য সেখানে যায়।’ খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে চীনের কুনমিং যেতে মাত্র ২ ঘণ্টা সময় লাগে। তাছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার মান ও পরিবেশ অত্যন্ত ভালো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তাতে সন্তুষ্ট হলে চলবে না। বাংলাদেশে অত্যন্ত উঁচু মানের হাসপাতাল প্রয়োজন। এ কারণেই চীন সরকারের কাছে বাংলাদেশ একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নির্মাণের অনুরোধ করা হয়।’ প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

ঈদে জরুরি বিভাগ-ওটি-ল্যাব চালুসহ ১৬ নির্দেশনা অধিদপ্তরের

আসন্ন ঈদুল ফিতরে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমারজেন্সি ওটি, ল্যাব সার্বক্ষণিক চালু রাখাসহ ১৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর। নির্দেশনায় জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করে হলেও সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, উপযুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, ঈদুল ফিতর ২০২৫-এর ছুটির সময়ে হাসপাতালসমূহে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনার জন্য নিম্নলিখিত নির্দেশনা প্রদান করা হলো— ১. জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নপূর্বক সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। ২. জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমারজেন্সি ওটি, ল্যাব সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। ৩. কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার জন্য ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে। ৪. প্রতিষ্ঠান প্রধান নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করবেন। ৫. সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালককে অবহিত করে শুধুমাত্র ঈদের ছুটিকালীন সময়ে নিজ জেলার মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করতে পারবেন। ৬. হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ ইউনিট প্রধানরা প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারকি করবেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহে জরুরি ল্যাব, এক্সরে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনুকূলে সেবা চালু রাখতে হবে। ৭. ছুটি শুরু হওয়ার পূর্বেই ছুটিকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ, আইডি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্ভিক্যাল সামগ্রী মজুদ ও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে স্টোর কিপার অথবা ছুটিকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করবেন। ৮. অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। ৯. ছুটিকালীন সময়ে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগামপত্র দিতে হবে। ১০. ছুটিকালীন সময়ে সব স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ বিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ১১. প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানরা ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন এবং ঈদের দিন কুশল বিনিময় করবেন। ১২. প্রতিষ্ঠান প্রধান ছুটি নিলে অবশ্যই বিধিমোতাবেক কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন এবং দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্মকর্তা সব দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। ১৩. প্রতিষ্ঠান প্রধান ঈদের দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন এবং রোগীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ১৪. বহির্বিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার অধিক বন্ধ রাখা যাবে না। এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। ১৫. ক. সকল বেসরকারি ক্লিনিক/ হাসপাতাল রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ খোলা রাখবে।খ. কোনো রোগী রেফার্ড করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।গ. রেফার্ড রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। ১৬. যেকোনো দুর্যোগ, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে। বিষয়টি অতীব জরুরি উল্লেখ করে নির্দেশনায় বলা হয়, মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

দেশে ২০ লাখ মানুষ চোখের গ্লুকোমায় আক্রান্ত

গ্লুকোমা চোখের এমন একটি রোগ, যার কারণে আক্রান্ত ব‌্যক্তি চিরতরে দৃষ্টি হারাতে পারেন। দেশের প্রায় ২০ লাখ মানুষ চোখের রোগ গ্লুকোমায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বল‌ছেন, ৪০ বছর বয়সের পর থেকে গ্লুকোমায় আক্রান্তের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এমন পরিস্থিতিতে রোগটি নিয়ে সচেতনতার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশ্ব গ্লু‌কোমা সপ্তাহ উপল‌ক্ষে শনিবার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ গ্লুকোমা সোসাইটি ও অ্যারিস্টোভিশনের উদ্যো‌গে রাজধানীর সোবহানবাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তরা এসব কথা বলেন। সভায় বিশেষজ্ঞরা জানান, মানুষের শরীরে যেমন ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ থাকে, তেমনি চোখেরও প্রেশার আছে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের ব্লাড প্রেশার যেমন থাকে ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি, তেমনি সাধারণত চোখের ভেতরের প্রেশার ১০ থেকে ২১ মিলিমিটার অব মার্কারি। এ প্রেশার যখন ২১ মিলিমিটারের ওপরে চলে যায়, তখন চোখের ভেতরে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত চাপ যখন চোখের ভেতরের অপটিক নার্ভে চাপ দেয় তখন তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এর ফলে চোখে কম দেখা শুরু হয় এবং প্রেশারের কারণে অপটিক নার্ভ যত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তত ধীরে ধীরে অন্ধত্বের দিকে চলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে। এ সমস্যাটিই হচ্ছে গ্লুকোমা। এদিন সকাল ১০টায় গ্লকোমা সোসাইটির কার্যালয় ধানমন্ডির হারুন আই ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ফ্রি স্ক্রিনিং ক্যাম্প, বর্ণাঢ্য র‍্যালির আয়োজন করা হয়। র‍্যালির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শাহাবউদ্দিন। একইসঙ্গে সকাল ১০টা থেকে একটা পর্যন্ত বিনামূল্যে চক্ষু রোগী দেখা হয়। পরে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এসময় গ্লুকোমা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা সহীদ, হারুন আই ফাউন্ডেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. শেখ এম এ মান্নাফ গ্লুকোমা রোগের সচেতনতা মূলক বক্তব্য প্রদান করেন। হারুন আই ফাউন্ডেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডা. জুয়েলা নাসরিন অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্লুকোমা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. জাকিয়া সুলতানা সহীদ। তি‌নি গ্লুকোমা রোগের গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে গণমাধ্যমকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। গ্লুকোমা প্রতিরোধে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা কামনা করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির মহাসচিব ডা. মো. জিননুরাইন (নিউটন) গ্লুকোমার ভয়াবহতা ও চিকিৎসা সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন। আলোচনা সভায় অধ্যাপক এম নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ডা. মো. আরিফ মিয়া, ডা. এম জিয়াউল করিম ও অধ্যাপক ডা. হাসান শহীদ গ্লুকোমা রোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ ছাড়া সভায় গ্লুকোমা সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. সিদ্দিকুর রহমান গ্লুকোমা সোসাইটির কার্যক্রম তু‌লে ধ‌রেন। এসময় তি‌নি জানান গ্লু‌কোমা সপ্তাহ উপল‌ক্ষে দে‌শের সরকা‌রি বেসরকা‌রি ৭০‌টি প্রতিষ্ঠা‌নে সভা সিম্প‌জিয়ামসহ প্রচারণা চালানো হ‌য়ে‌ছে।‌ তি‌নি রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেন।

পুত্রসন্তান পেতে কোনো পদ্ধতি আছে কিনা, যা বললেন ডা. তাসনিম জারা

ভারতীয় উপমহাদেশে ছেলে সন্তান পাওয়া নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক। এ বিষয়ে সমাজে অনেক মিথ প্রচলিত আছে। প্রাচীনকালে অদ্ভূত কিছু পদ্ধতিও গ্রহণ করতেন নারী-পুরুষেরা। এখনও বিভিন্ন সমাজে এসবের প্রচলন রয়ে গেছে। আসলে পুত্রসন্তান পাওয়ার জন্য সহবাসের সময় কোনো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি আছে কিনা? এমন প্রশ্নে জবাব দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। এ বিষয়ে তিনি প্রাচীন ফ্রান্সের একটি উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে প্রায় ২০০-২৫০ বছর আগের কথা। ফ্রান্সের সম্ভ্রান্ত পরিবারের পুরুষরা তাদের বাঁদিকের অণ্ডকোষ বেঁধে রাখতেন। আবার কেউ কেউ অণ্ডকোষ কেটেও ফেলতেন যাতে পুত্রসন্তান হয়। এ কাজটা করার পেছনে তাদের একটা চিন্তা ছিল, বৈজ্ঞানিক শোনা যায় এমন একটা ব্যাখ্যাও ছিল।’ ব্যাখ্যাটা হলো পুরুষের দুইটি অণ্ডকোষ কাজ আলাদা। কেননা, অণ্ডকোশ দুইটির আকার আলাদা, ডান দিকেরটা সাধারণত বড় থাকে। তাই তারা চিন্তা করতো ডান দিকের অণ্ডকোষ থেকে ছেলে হয় আর বাঁদিকে অণ্ডকোষ থেকে মেয়ে হয়। যেহেতু বাঁদিকের অণ্ডকোষ থেকে মেয়ে হয় তাই তারা সেটাকে কেটে ফেলতো বা বেঁধে রাখতো। এই কাজটি করার পেছনে একটি কারণ ছিল, সেখানকার একজন বিজ্ঞানী তার বইয়ে লিখেছিলেন যে, এই অণ্ডকোষ কেটে ফেলা খুব সহজ একটা অপারেশন। দাঁত ফেললে যেমন ব্যথা লাগে এটি কাটলে ঠিক তেমনই একটু ব্যথা লাগবে। তাই অণ্ডকোষ কেটে ফেলা পুত্রসন্তান পাওয়ার একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। অন্যদিকে অণ্ডকোষ কাটার সাহস যাদের ছিল না তাদের জন্য ওই বিজ্ঞানী একটি উপায় বের করেছিলেন। সেটি হল- তাদের স্ত্রীরা সহবাসের পর যেন এক দিকে কাত হয়ে শুয়ে থাকে। পুরুষের যেমন অণ্ডকোষ দুইটা তেমনই মেয়েদেরও ডিম্বাশয় দুইটা থাকে। একদিকের ডিম্বাশয় ছেলে আর অন্য দিকেরটায় মেয়ে সন্তান হয়। সুতরাং যেই লিঙ্গের সন্তান সে চায় সেই দিকে সে কাত হয়ে শুয়ে থাকবে। এই কথাগুলো বর্তমান সময় শুনতে খুব হাস্যকর শোনালেও তখনকার সময়ে এ পদ্ধতিটা খুবই জনপ্রিয় ছিল। ওই বিজ্ঞানীর লেখা সেই বইটির অনেকগুলো কপি বিক্রি হয়েছিল সে সময়। বইটির নাম ছিল ‘দ্য আর্ট অব হেভিং বয়েস’ অর্থাৎ পুত্রসন্তান পাওয়ার আর্ট। পুত্রসন্তান পাওয়া জন্য যদি আপনাদেরকে কেউ কোনো চমকপ্রদ পদ্ধতির কথা বলে সেটা এড়িয়ে চলবেন। এটা এড়িয়ে চলাই ভালো। কেননা, এতে আপনার অর্থের ক্ষতি হতে পারে, সময়ের ক্ষতি হতে পারে এবং শারীরিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। সত্যিকারার্থে ছেলে ও মেয়ে সন্তান জন্ম হওয়ার বিষয়টি পুরোটাই নির্ভর করে স্রষ্টার ইচ্ছার ওপর। এখানে মনুষ্য ইচ্ছার কোনো সুযোগ নেই।

ন্যাশনাল ব্যাংকের সাথে আজগর আলী হাসপাতালের চুক্তি

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড ও আজগর আলী হাসপাতালের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি সই হয়েছে। গত সোমবার (১০ মার্চ) হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের আইটিডির প্রধান ও এসইভিপি কাজী কামাল উদ্দিন আহমেদ, কার্ড ডিভিশনের অপারেশন ইনচার্জ ও ভিপি উজ্জ্বল কুমার পাল, এভিপি প্যাট্রিক অজয় গমেজ, আজগর আলী হাসপাতালের হেড অফ অপারেশনস মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী, অ্যাকাউন্টস এন্ড ফিন্যান্সের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম তালুকদার, কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ম্যানেজার মারুফ বিন হাফিজ। চুক্তি অনুযায়ী ন্যাশনাল ব্যাংকের কার্ডধারী এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারবর্গ আজগর আলী হাসপাতালের বিভিন্ন ধরনের সেবায় বিশেষ ছাড় ও কর্পোরেট সুবিধা পাবেন।

চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ঢামেক-সোহরাওয়ার্দীর বর্হিবিভাগ সেবা বন্ধ

চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বর্হিবিভাগ সেবা বন্ধ হয়ে পড়েছে। পাঁচ দাবিতে বুধবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে গেলে হাসপাতাল দুটির চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকদের কর্মসূচির কথা জানা না থাকায় সেখানে সকাল থেকে রোগীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যাচ্ছেন, অনেকে আবার সেখানেই ঘোরাঘুরি করছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার সারা দেশে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করবে। একই সঙ্গে সরকারি বেসরকারি সব হাসপাতালের ইনডোর, আউটডোর সেবা ও বৈকালিক চেম্বার বন্ধ থাকবে। তারা আরও জানান, বুধবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চিকৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মহাসমাবেশ হবে। সেখান থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিমুখে লংমার্চ হবে। যে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন চিকিৎসকেরা, সেগুলো হলো এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্তরা ছাড়া অন্য কেউ ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না এবং আদালতে চলমান জনস্বাস্থ্যবিরোধী সব রিট নিষ্পত্তি করতে হবে; রেজিস্টার্ড চিকিৎসক (এমবিবিএস/বিডিএস) ছাড়া অন্য কেউ প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবে না; মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্সের কারিকুলাম সংস্কার এবং মানহীন ম্যাটস (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) বন্ধ করতে হবে; জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের শূন্যপদ পূর্ণ করতে হবে এবং বিসিএস বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করতে হবে এবং চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) তৈরি করতে হবে। আন্দোলনের শুরু: এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া কেউ ‘ডাক্তার’ লিখতে পারবে না- এমন দাবি তুলে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবিতে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। সেগুলো শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং চিকিৎসক পেশাজীবীদের ১৭ সংগঠন নিয়ে এ ‘সর্বস্তরের চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এ ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছে।

এমবিবিএস-বিডিএস ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার লিখতে পারবে না: হাইকোর্ট

এমবিবিএস এবং বিডিএস ডিগ্রিধারী ছাড়া কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবি লিখতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১২ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি সাথীকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, ‘এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া আজ পর্যন্ত যারা নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’ তবে কাল বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) থেকে আইন ভঙ্গ করে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করলে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এদিকে হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি করেছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা। তবে অন্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া কেউ ‘ডাক্তার’ লিখতে পারবে না- এমন দাবি তুলে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবিতে সংহতি প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেইনি চিকিৎসকরা। শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও চিকিৎসক পেশাজীবীদের ১৭ সংগঠন নিয়ে ‘সর্বস্তরের চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এ ঐক্য গড়ে তোলা হয়েছে। এর অধীনে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন আর ইন্টার্নরা প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করছেন। চিকিৎসকদের পাঁচ দাবি হল এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিপ্রাপ্তরা ছাড়া অন্য কেউ ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না এবং আদালতে চলমান জনস্বাস্থ্যবিরোধী সব রিট নিষ্পত্তি করতে হবে; রেজিস্টার্ড চিকিৎসক (এমবিবিএস/বিডিএস) ছাড়া অন্য কেউ প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবে না; মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্সের কারিকুলাম সংস্কার এবং মানহীন ম্যাটস (মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) বন্ধ করতে হবে; জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের শূন্যপদ পূর্ণ করতে হবে এবং বিসিএস বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করতে হবে এবং চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) তৈরি করতে হবে।

পাঁচ দাবিতে ফের আন্দোলনে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা

আবার সারা দেশে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, ইন্টার্ন, মেডিকেল অফিসার ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণার্থীরা। বুধবার (১২ মার্চ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপতালে গিয়ে দেখা যায়, তাদের এ কর্মসূচির কারণে বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা।ঢামেক হাসপাতাতালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফলে বেশ কয়েক ঘণ্টা বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখায়, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরাও পাল্টা আন্দোলন শুরু করেন। পরে তারা হাসপাতালে পরিচালকের কাছে যান। সেবা বন্ধ থাকায় পরিচালকের রুমের সামনে সাধারণ রোগীরা বাগবিতণ্ডা শুরু করেন।এরপর হাসপাতালের পরিচালকের অনুরোধে আন্দোলনরত মেডিকেল চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু করেন । এদিকে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের মতো আজও ‘সাধারণ মেডিকেল শিক্ষার্থী’র ব্যানারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে বিক্ষোভ করার কথা রয়েছে ঢামেক শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও রাজশাহী মেডিকেলও তাদের এ কর্মসূচি পালন করছেন। সেখানে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা।শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবি হল এমবিবিএস/বিডিএস ব্যতীত কেউ চিকিৎসক লিখতে পারবেন না। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) বিরুদ্ধে করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে। বিএমডিসি নিবন্ধন শুধু এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে। ২০১০ সাল থেকে হাসিনা সরকার ম্যাটসদের (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন দেয়া শুরু করেছে। এ ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে নিবন্ধন দেয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে; উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওভার দ্যা কাউন্টার বা ওটিসি ড্রাগ লিস্ট আপডেট করতে হবে। এমবিবিএস বা বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি লিস্টের বাইরের ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারবে না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি লিস্টের বাইরের কোনো ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না; স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে দ্রুত ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সব শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করে আগের মতো সপ্তম গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিবছর চার থেকে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসকদের বিসিএসে বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে; সব মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট স্কুল (ম্যাটস) ও মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ করতে হবে। এরইমধ্যে পাস করা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) পদবি রহিত করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে এবং চিকিৎসকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তায় চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বাস্তবায়ন করা। এ ক্ষেত্রে দ্রষ্টব্য যে ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগে অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ডাক্তার সমাজের প্রতিবাদের মুখে ৭ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। যা আজ ৭ মাস পেরিয়েও কোনো আলোর মুখ দেখেনি। চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।গত মঙ্গলবার (১১ মার্চ) থেকে তারা এ আন্দোলন শুরু করেন। তাদের দাবি না মানা হলে সব শিক্ষক ও চিকিৎসককে নিয়ে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

উন্নত চিকিৎসা নিতে চীনের উদ্দেশে রওনা হলেন ১৪ রোগী

চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার চিকিৎসা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৪ জন বাংলাদেশি রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সোমবার (১০ মার্চ) প্রথম দফায় তাদের পাঠানো হলো। এ উপলক্ষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে দায়িত্বরত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘এই প্রথম দলে রোগীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, ট্যুর অপারেটর ও সাংবাদিকসহ মোট ৩১ জন রয়েছেন।’ বিমানবন্দরের সিআইপি আউটডোর পথে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশি রোগীরা বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই কারণেই অন্তর্বর্তী সরকার চীনের সহায়তা চেয়েছিল এবং চীনা সরকার ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।’ ভ্রমণের খরচ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনে ভ্রমণের বিমান ভাড়া কমানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা নীতি নেই।’ আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে ভিসার জন্য আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রতিনিধি দলের সদস্য ড. রাশেদুল হাসান চীনে উন্নত চিকিৎসার সুযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘চীন গুরুতর রোগ যেমন ট্রান্সপ্লান্ট ও ক্যান্সারের মতো চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উন্নত চিকিৎসা দেয়। তবে অনেক বাংলাদেশি এই সুযোগগুলোর বিষয়ে অবগত নন। আমরা চিকিৎসকরা চীনে উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাব, যা বাংলাদেশে প্রয়োগ করা যাবে।’ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে থাকা একজন ট্র্যাভেল এজেন্ট বলেন, ‘চীনে চিকিৎসা খরচ ভারতের চেন্নাই, দিল্লি, ব্যাঙ্গালুরু বা থাইল্যান্ডের মতো। কিছু ক্ষেত্রে চীনে চিকিৎসা আরও সস্তা।’ পররাষ্ট্র সচিব মিজানুর রহমান এই উদ্যোগকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, রোগীদের প্রতিনিধিরা, চিকিৎসক এবং ভ্রমণ সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ঘোষণা দিয়েছিলেন, চীনের ইউনান প্রদেশের তিনটি শীর্ষ স্থানীয় হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের গ্রহণ করার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো চিকিৎসা সেবার প্রক্রিয়া সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দোভাষীর দল গঠনের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সম্প্রতি চীন সফরের সময় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন, বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য খাতে। তিনি চীনকে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তা এবং বাংলাদেশে হাসপাতাল প্রকল্পের জন্য সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ইফতারে খালি পেটে বেলের শরবত খেলে কী হয়?

স্বাস্থ্যসচেতন অনেকেই ইফতারে পানীয় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বেলের শরবত। সারাদিন রোজা রাখার পর খালি পেটে ইফতারে এ শরবত খাওয়া শরীরের জন্য বিশেষ উপকারী। তাই, শরীরে নানা উপকারিতা পেতে বেলের শরবত খাওয়ার পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। বেল পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি ফল। সেই সঙ্গে এতে আছে নানান ঔষধি গুণ, যা আমাদের দেহের অনেক উপকার করে। প্রাচীন সময় থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে শরীরের জন্য উপকারী হিসেবে পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছে এ ফল।বিভিন্ন উপকারী গুণের পাশাপাশি গরমে ঠান্ডা এক গ্লাস বেলের শরবত নিমেষেই আপনাকে প্রশান্তি এনে দিতে পারে। তাই, গরমের এই সময় ইফতারের শুরুতে বেলের শরবতকে সঙ্গী করে নিতে পারেন।ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে আসুন এক নজরে জেনে নিই, বেলের শরবত খাওয়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে-কোষ্ঠকাঠিন্য: নিয়মিত বেল খেলে এর ল্যাকোটিভগুণ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ও মুখের ব্রণ দূর হয় এবং ত্বক ভালো থাকে। টানা ৩ মাস যদি আপনি নিয়মিত বেল খান, তাহলে আপনি সহজেই মুক্তি পেতে পারেন এই সমস্যা থেকে।আলসারের ওষুধ: আলসারের ওষুধ হিসেবে খেতে পারেন বেল। পাকা বেলের শাঁসে সেই ফাইবার আছে, যা আলসার উপশমে খুবই কার্যকরী। এ জন্য সপ্তাহে তিন দিন খান বেলের শরবত।ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে বেল। পাকা বেলে আছে মেথানল নামের এক উপাদান, যা ব্লাড সুগার কমাতে অনবদ্য কাজ করে। তবে শরবত করে নয়, বেল খেতে হবে এমনিই।আর্থ্রাইটিস: শরীরে হাড়ে কিংবা মাংসে ব্যথা ছাড়া এখন খুব কম মানুষই আছেন। আর্থ্রাইটিসের কারণে এমনটা হয়ে থাকে। এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেও বেলকে সঙ্গী করে নিতে পারেন।এনার্জি: পুষ্টিবিদরা বলছেন, ফাইবারে ভরপুর বেল হজম ক্ষমতা বাড়ায়। এনার্জি বাড়াতে বেলের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১০০ গ্রাম বেল ১৪০ ক্যালরি এনার্জি দেয়। পাচনক্রিয়াকেও শক্তিশালী করে তোলে এই বেল।ব্লাড প্রেশার: ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়ার কারণে চিন্তায় রয়েছেন? এ সময় বেল খেলে দূর হবে এই সমস্যা? চিকিৎসকরা বলছেন, ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেলের জুড়ি মেলা ভার।ক্যানসার: বেলে রয়েছে অ্যান্টি প্রলেফিরেটিভ ও অ্যান্টি মুটাজেন উপাদান। নিয়মিত বেল খেলে শরীর ক্যানসার প্রতিরোধী শক্তি বাড়ে।পানিশূন্যতা কমিয়ে শরীরকে শীতল রাখা: বেল খাওয়ার সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো এটি শরীরের ইমিউনিটি বুস্ট করার পাশাপাশি শরীরকে শীতল রাখে।হজম শক্তি বাড়ায়: বেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এটি অন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। পাচন প্রক্রিয়া সবল করে হজম শক্তি বাড়াতে পারে।ত্বকের যত্ন: অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ এবং সি-র ভালো উৎস বেল। তাই ত্বকের যত্নের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে গোলাকার এ ফলটি।এ ছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস, যক্ষ্মা, অপুষ্টিতেও ভালো কাজে আসে এই বেল। তাই গরমের এই সময় ইফতারে নিয়মিত খেতে পারেন বেল অথবা বেলের শরবত।

দাবি পূরণের আশ্বাসে বিসিএস চিকিৎসকদের কর্মবিরতি স্থগিত

তিন মাসের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম। শনিবার (৮ মার্চ)সকাল ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) এসে কর্মবিরতি শুরু করা চিকিৎসদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্মতিপত্র আসার পর তারা প্রক্রিয়া শুরু করবেন।’ দাবি পূরণে সময় চেয়ে সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এই কাজটি শেষ করতে ২০-২৫ কার্যদিবস লাগবে। সব মিলিয়ে আপনাদের দাবি-দাওয়াগুলো পূরণে আমরা ১২ সপ্তাহ সময় চেয়েছি। এখানে দুইটি মন্ত্রণালয় জড়িত আছে। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মতি নিয়ে কাজটা করছি। বিষয়টি নিয়ম মেনে করতে হচ্ছে।’ এরপর কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন চিকিৎসারা। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের পক্ষে চিকিৎসক মোহাম্মদ আল আমিনের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির ঘোষণা এসেছিল শুক্রবার (৭ মার্চ)। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী পদোন্নতি ও সব ধরনের বৈষম্য নিরসনের দাবিতে শনিবার সকালে তিন দিনের কর্মবিরতিতে নামে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম। কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার ১০টা থেকে টানা তিন দিন সরকারি হাসপাতালে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করার কথা ছিল চিকিৎসকরা। দাবি আদায় না হলে মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ দিবস কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তবে জরুরি বিভাগের সেবা এই কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম। শনিবার সকালে ঢামেকের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে চিকিৎসকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের দাবিগুলো হল- চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও এমবিবিএস ডিগ্রির বৈশ্বিক স্বীকৃতি বজায় রাখতে পদোন্নতিযোগ্য সব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অতি দ্রুত ও ভূতাপেক্ষভাবে পদোন্নতি নিশ্চিত করা। অন্তঃ ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করা। তৃতীয় গ্রেড পাওয়া সব যোগ্য চিকিৎসককে নির্দিষ্ট সময় পর দ্বিতীয় ও প্রথম গ্রেডে পদোন্নতি দিয়ে ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা। বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের সদস্য সচিব চিকিৎসক মো. বশির উদ্দিন শনিবার সকালে বলেছেন, ‘তাদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী চিকিৎসক সায়েদুর রহমানের সঙ্গে তারা বৈঠক করেছেন।’ ‘তিনি দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন।’ চিকিৎসক নেতা বশির উদ্দিন বলেছিলেন, ‘রোববার (৯ মার্চ) সব হাসপাতালে কর্মবিরতি চলবে এবং তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে অবস্থান নিবেন।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানিয়েছিল, দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। নইলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার থেকে তিন দিনের কর্মবিরতির ঘোষণা আসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আরও কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকেও। বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন, সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ, সোসাইটি অব নিউজরোলজিস্ট অব বাংলাদেশ, সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনস অব বাংলাদেশ, এসোসিয়েশন ফর দি স্টাডি অব লিভার ডিজিজেস বাংলাদেশ দ্য চেস্ট অ্যান্ড হার্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনস এ বিষয়ে পৃথক বিবৃতি দিয়েছে।

কর্মবিরতিতে বিসিএস চিকিৎসকরা

দুই দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকরা। আজ শনিবার (৮ মার্চ) সকাল থেকে টানা তিন দিন দুই ঘণ্টা করে চলবে এই কর্মসূচি। শুক্রবার (৭ মার্চ) বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের পক্ষে ডাক্তার মোহাম্মদ আল আমিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ন্যায্য পদোন্নতি ও সব প্রকার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বিসিএস (স্বাস্থ্য) বিশেষজ্ঞ ফোরামের উদ্যোগে এবং সব চিকিৎসা সোসাইটির সমর্থনে ৮, ৯ ও ১০ মার্চ প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হবে।’ এ সময় চিকিৎসকরা হাসপাতালের সামনে ব্যানার হাতে মৌন প্রতিবাদ করবেন। তবে জরুরি বিভাগ কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে, যাতে রোগীদের জরুরি চিকিৎসা ব্যাহত না হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দাবি আদায় না হলে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করবেন তারা।

প্রথম মাইগ্রেশনে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেন ১৭৩ শিক্ষার্থী

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তিতে প্রথম দফা মাইগ্রেশনের তালিকা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশন শেষে সরকারি মেডিকেল কলেজে শূন্য আসনে ১৭৩ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) থেকে ১২ মার্চের মধ্যে মাইগ্রেশন হওয়া কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। তা না হলে উভয় কলেজ হতে ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচলিত বিধি মোতাবেক মেডিকেল কলেজে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কলেজ পরিবর্তনের পূরণকৃত অনলাইন মাইগ্রেশন ফরমের প্রাপ্ত তথ্যানুসারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রথম দফায় মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে স্বয়ংক্রিয় মাইগ্রেশন শেষে সরকারি মেডিকেল কলেজে শূন্য আসনে ১৭৩ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হলো। এক্ষেত্রে মেধা, পছন্দক্রম ও আসন শূন্যতার ভিত্তিতে বিভিন্ন কলেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, মাইগ্রেশনে সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ভর্তিকৃত কলেজের অধ্যক্ষের দপ্তরে যোগাযোগ করে ৬ মার্চ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে অবশ্যই মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। এ সময়ের মধ্যে কেউ ভর্তি হতে ব্যর্থ হলে উভয় কলেজ থেকে তার ছাত্রত্ব বাতিল হয়ে যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অপেক্ষমাণ তালিকা ও অভিপ্রায়ণের (মাইগ্রেশন) ফল স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট www.dgme.gov.bd ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট www.dghs.gov.bd থেকে জানা যাবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের শুধু টেলিটকের 01550-155555 নম্বর থেকে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য জানানো হবে। মাইগ্রেশনে সুযোগপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজে আগামী শনিবারের (৮ মার্চ) মধ্যে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভর্তির পূর্ণ তালিকা ও শূন্য আসনের (যদি থাকে) তথ্য সফট কপি ই-মেইলে ও হার্ড কপি আগামী ১৩ মার্চের মধ্যে পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা শাখায় (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পুরাতন ভবন), বিশেষ বাহক মারফত পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। ভর্তিরত শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় দফায় অনলাইন মাইগ্রেশনের সময়সীমা ১২ মার্চ পর্যন্ত ও অধ্যক্ষ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের তথ্য টেলিটকের ওয়েব পোর্টালে অগ্রবর্তীকরণের শেষ তারিখ আগামী ১৩ মার্চ দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

ইফতারে তরমুজ খেলে কী ঘটে দেহে?

তরমুজ বহু পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি সুস্বাদু ও রসালো ফল। এটি শিশু থেকে বয়ষ্ক সবারই পছন্দ। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের এই সময়ে রোজা রাখায় শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। তরমুজে ৯২ শতাংশ পানি হওয়ায় এটি ইফতারে পানির চাহিদা মেটাতে পারে। এ জন্য ইফতারে রাখা যেতে পারে মৌসুমি এই ফল। তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় ক্যালোরি খুবই কম। তাই এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন এ ও সি, ক্যারোটিনয়েডস, লাইকোপিন ও কিউকারবিটাসিন ই আছে। এছাড়া এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তরমুজে হার্টের জন্য উপকারী খনিজ ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন সি আছে।দেখে নিন ইফতারে তরমুজ খেলে কী ঘটে শরীরে- তরমুজ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে ও কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে।তরমুজে প্রচুর আঁশ আছে, যা হজমে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।তরমুজের অ্যামিনো অ্যাসিড, সিট্রুলাইন পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে ও রক্তনালি প্রসারিত করে। এতে রক্ত সহজে পাম্প হয়।তরমুজের বেশ কিছু পুষ্টিগুণ চুল ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এতে প্রচুর আঁশ আছে, যা হজমে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সহায়তা করে।তবে তরমুজ উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত হওয়ায় এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়ায়। তাই যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের এটি বেশি না খাওয়াই ভালো।সাবধানতা: তরমুজ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়ায়। এ জন্য যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের বেশি না খাওয়াই ভালো। তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় যাদের কিডনি সমস্যা বা কিডনিজনিত রোগ আছে তাদের না খাওয়াই ভালো। এতে প্রচুর পানি থাকায় তরমুজ খাওয়ার পরপরই পানি পান থেকে বিরত থাকুন।

স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পাঁচ দফা চিকিৎসকদের

দেশের স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও চিকিৎসা পেশার মর্যাদা রক্ষায় পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আগামী ১২ মার্চের মধ্যে এসব দাবি পূরণ না হলে সকল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা যথাক্রমে কর্মবিরতি ও ক্লাস বর্জন করবেন। এমনকি ১২ মার্চ হাইকোর্ট কর্তৃক ‘ডাক্তার’ পদবী সংক্রান্ত রিটের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মসূচিতে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তারা। বুধবার (৫ মার্চ) চিকিৎসক ও চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর সম্মিলিত জোট ইউনাইটেড মেডিকেল অর্গানাইজেশনস অব বাংলাদেশের (ইউমব) পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করার জন্য আদালতে একটি রিট করা হয়েছিল, যার ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে বেআইনিভাবে তাদের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করে দেশের সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। বিগত ১৩ বছরে ৯০ বার কজ লিস্টে আসার পর, এমনকি শুনানির পর্ব গত তিন মাস আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নানাবিধ অদৃশ্য কারণে এই রিটের রায় প্রদান করা হচ্ছে না। এভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি রিটকে বারবার পেছানোর মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষকে সঠিক স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির মৌলিক ও রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। পাঁচ দফা দাবি হল এমবিবিএস/বিডিএস ডিগ্রীপ্রাপ্তগণ ব্যতীত অন্য কেউ নামের পূর্বে ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করতে পারবে না এবং আদালতে চলমান এই সংক্রান্ত আইন ও জনস্বাস্থ্য বিরোধী সব রিট আগামী ১২ই মার্চের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে; রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ছাড়া অন্য কেউ স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবে না মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে; আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট কোর্স কারিকুলাম সংস্কার কমিটি গঠন করে তাদের কোর্স কারিকুলাম পুনঃনির্ধারণ এবং মানহীন সব ম্যাটস (মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে; জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণের জন্য শূন্যপদে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ এবং চিকিৎসকদের বিসিএসের বয়সসীমা ৩৪ বছরে উন্নীত করতে হবে এবং অনতিবিলম্বে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো (পে-স্কেল) প্রণয়ন করতে হবে। ওপরের পাঁচ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কিছু কর্মসূচি চলমান থাকবে। এগুলো হল ৬-১০ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ কর্মবিরতি পালন করবেন এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করবেন, পাশাপাশি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন; ৫ মার্চ-১০ মার্চ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল, ডিরেক্টর এবং ডিপার্টমেন্ট প্রধানদের স্মারকলিপি প্রদান, কর্মসূচির ব্যাপারে অবহিতকরণ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও অনলাইন প্রচারণা; ১০ মার্চ জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন; ১১ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সব চিকিৎসক কর্মবিরতি পালন করবেন এবং মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করবেন, পাশাপাশি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন এবং ১২ মার্চ দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা যথাক্রমে কর্মবিরতি ও ক্লাস বর্জন করবেন। ১২ মার্চ ঢাকার সব চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হবেন এবং ঢাকার বাইরে সবাই নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন। (১২ মার্চ রায় প্রদান না করা হলে এবং অন্যান্য দাবি না মেনে নিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মসূচি চলমান থাকবে। জানা গেছে, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টদের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে বর্তমানে তিনটি রিট চলমান। এগুলো হল ডাক্তার পদবি ব্যবহার সংক্রান্ত ২৭৩০/২০১৩, ডাক্তার পদবি সংক্রান্ত ‘বিএমডিসি অ্যাক্ট ২০১০’-এর ধারা ২৯’কে চ্যালেঞ্জ করে ১৩০৪৬/২০২৪ এবং আপডেটেড ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার বৈধতা চেয়ে ১৩৪৬২/২০২৪। অনতিবিলম্বে এসব রিটের নিষ্পত্তিকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের নিকট উদাত্ত আহ্বান চিকিৎসক সমাজের। অনাথায় দেশের সচেতন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও জনতা ক্রমান্বয়ে আদালত এবং সরকারের উপর আস্থা হারাতে বাধ্য হবে বলেও মনে করেন তারা।

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের সহজ তিন উপায়

লিভার আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অরগান। সেই সাথে এর সমস্যাও বড় বড়। এর থেকে মৃত্যুও হতে পারে। ফ্যাটি লিভারের প্রতিরোধ ডাক্তারের হাতে না। নিজের হাতে। ফ্যাটি লিভার ডিজিসের চিকিৎসায় করণীয় বিষয়ে কথা বলেছেন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোকসানা বেগম। ফ্যাটি লিভারের কারণ: রক্তে অতিরিক্ত চর্বি, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, বিভিন্ন মেডিসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, অতিরিক্ত ওজন বা খুব দ্রুত ওজন কমানো, পেটে অতিরিক্ত মেদ, বেশি পরিমাণ রিফাইন্ড শর্করা গ্রহণ, মদ্যপান বা জেনেটিক্স কারণে একজন মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন। মূলত, শর্করা ও ফ্যাট বিপাক ক্রিয়ার নানা অসামঞ্জস্যতার ফলে এই রোগ হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণ: ফ্যাটি লিভার থেকে মুক্তি পেতে ওজন কমানো সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। যাদের ওজন বেশি, তারা যদি মাত্র ৭-১০ শতাংশ ওজন কমাতে পারেন তবে ফ্যাটি লিভার থেকে খুব দ্রুতই মুক্তি সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, না খেয়ে বা কোনো মেডিসিনের মাধ্যমে খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করবেন না, এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি। আপনার ওজন যেমন ১ দিনে বা ৭ দিনে বাড়েনি তাই, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে সময় দিতে হবে। সঠিক খাবার গ্রহণ সেই সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওজন অর্জনে সহায়তা করবে।পানি: যকৃত বা লিভার ভালো রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে পানি পান করা। লিভার ভালো রাখতে অবশ্যই সঠিক পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা আবশ্যক। সুতরাং, অস্বাস্থ্যকর পানীয় যেমন কার্বোনেটেড বেভারেজ বা রাস্তার মোড়ে থাকা শরবত পানের অভ্যাস থাকলে আজ থেকে বাদ দিন এবং বিশুদ্ধ পানি পান করুন এবং আপনার যকৃতকে ভালো রাখুন। খাদ্যভাসে পরিবর্তন: যে কোনো রোগ থেকে বাঁচার জন্য খাদ্যভাসে পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই। একজন মানুষের ওজন, উচ্চতা, পরিশ্রমের ধরন, শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে নিয়মিত সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত। বিভিন্ন রঙের শাকসবজি, ফল, লাল আটার রুটি বা লাল চালের ভাত এবং সঠিক পরিমাণে প্রোটিন, খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন রাখতে হবে। চিনি ও চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে।নিয়মিত স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে ডায়াবেটিস, ওজন নিয়ন্ত্রণ বা লিপিড প্রোফাইল ঠিক রাখা কোনো কঠিন বিষয় নয়। আর এই কাজগুলো সঠিকভাবে করতে পারলে লিভার থেকে ফ্যাট খুব সহজে দূর হবে। মনে রাখবেন, লিভার ভালো রাখতে ফিট থাকার কোনো বিকল্প নেই।

২৯ জন সিভিল সার্জনকে ওএসডি

সারা দেশের ২৯টি জেলার সিভিল সার্জনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। রোববার (২ মার্চ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব সনজীদা শরমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘বদলি বা পদায়নকৃত কর্মকর্তারা আগামী ৬ মার্চের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায় বর্তমান কর্মস্থলে ৯ মার্চ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত মর্মে গণ্য হবেন।’ ওএসডির আদেশ পাওয়া সিভিল সার্জনরা হলেন বরিশালের সিভিল সার্জন ডাক্তার মারিয়া হাসান, কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. আকুল উদ্দিন, শরিয়তপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার আবুল হাদি মোহাম্মদ শাহ পরান, সিলেটের সিভিল সার্জন ডাক্তার মনিসর চৌধুরী, নোয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাক্তার ইফতেখার, পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মিজানুর রহমান, কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাক্তার আসিফ আহমেদ হাওলাদার, ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডাক্তার এইচএম জহিরুল ইসলাম, ফেনীর সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. শিহাব উদ্দিন, পাবনার সিভিল সার্জন ডাক্তার শহীদুল্লাহ দেওয়ান। এছাড়াও এ তালিকায় আছেন শেরপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, জামালপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. ফজলুল হক, পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাক্তার এসএম কবির হোসেন, মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. মহীউদ্দিন, নেত্রকোণার সিভিল সার্জন ডাক্তার অনুপম ভট্টাচার্য, টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডাক্তার মিনহাজ উদ্দিন মিয়া, ঠাকুগাঁওয়ের সিভিল সার্জন ডাক্তার নূর নেওয়াজ আহমেদ, গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডাক্তার কানিজ সাবিহা, জয়পুরহাটের সিভিল সার্জন ডাক্তার রুহুল আমিন, গাজীপুরের সিভিল সার্জন মাহমুদা আখতার, কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাক্তার সাইফুল ইসলাম। ওএসডি তালিকায় আরও আছেন বরগুনার সিভিল সার্জন ডাক্তার প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল, নওগাঁর সিভিল সার্জন ডাক্তার নজরুল ইসলাম, রংপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোস্তফা জামান চৌধুরী, নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডাক্তার হাসিবুর রহমান, মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোকছেদুল মোমিন, লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায়, পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান ও কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডাক্তার মনজুর এ মোর্শেদ।

দেশে প্রথম বার জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত, আক্রান্ত ৫

বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো জিকা ভাইরাসের ক্লাস্টার শনাক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ৫ জনের মধ্যে এই ভাইরাস পেয়েছে। সোমবার (৩ মার্চ) সংস্থাটি তাদের ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত তথ্য দিয়েছে। আইসিডিডিআরবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘২০২৩ সালে সংগ্রহ করা নমুনা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পেয়েছেন তারা। বিজ্ঞানীরা সমগ্র জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণ ব্যবহার করে প্রকাশ করেছেন যে, বাংলাদেশি এই স্ট্রেইন এশিয়ান লাইনেজের অন্তর্গত। এতে আক্রান্ত হলে মাইক্রোসেফালি ও অন্যান্য স্নায়বিক রোগের মতো গুরুতর সংকট দেখা দিতে পারে।’ আইসিডিডিআরবি তাদের ওয়েবসাইটে বলছে, ‘বাংলাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় জলবায়ু, এর উষ্ণ তাপমাত্রা এবং দীর্ঘ বর্ষাকাল এডিস মশার জন্য সর্বোত্তম প্রজনন পরিস্থিতি তৈরি করে। এ কারণে মশাবাহিত অনেক রোগ হয়। ডেঙ্গু ছাড়াও এখানে চিকুনগুনিয়া দেখা গিয়েছিল। এবার জিকা ভাইরাসও শনাক্ত হলো।’ জানা গেছে, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার মতো জিকাও ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। এর লক্ষণ ডেঙ্গুর মতো হলেও আশি শতাংশের ক্ষেত্রেই তা ধরা পড়ে না। ভাইরাস শরীরে থাকে বছর ধরে। এমনকি জিকা ভাইরাসে আক্রান্তের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের মাধ্যমেও ছড়ায় এই রোগ। জিকা আক্রান্ত হয়ে গর্ভবতী হলে অথবা গর্ভবতী জিকা আক্রান্ত হলে নানা শারীরিক ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয় শিশু। ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় বানরের শরীরে প্রথম ধরা পড়ে জিকা ভাইরাস। ১৯৫২ সালে প্রথম শনাক্ত হয় মানবদেহে। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অনেক দেশে।

মাইগ্রেনের ব্যথা কমায় যেসব খাদ্য

সাধারণত মাইগ্রেনের সমস্যায় মাথার ভেতরের অংশ, বাম, ডান বা উভয় পাশ ব্যথা হয়ে থাকে। এ সমস্যার সম্মুখীন হলে অনেকে ওষুধ খান। তবে কখনও কখনও ওষুধেও কাজ করে না মাইগ্রেন। তাই জেনে নিন, মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে পারে এমর কিছু খাবারের নাম। বিভিন্ন কারণেই আপনার মাইগ্রেনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সূর্যের প্রখর তাপদাহ কিংবা একটানা কম্পিউটার বা মোবাইলের সামনে বসে থাকা এর একটি কারণ হতে পারে। এছাড়াও ঘুম কম হওয়া, দুশ্চিন্তা, চোখের ক্লান্তি, সাইনাস প্রদাহ কিংবা মস্তিষ্কের রক্তনালিতে কোনো সমস্যা দেখা দিলেও মাথাব্যথা হতে পারে। অনেক সময় তীব্র মাথা ব্যথার সঙ্গে বমি ভাব, চোখে যন্ত্রণা এমনকী মুখ ও চোয়ালেও ব্যথাও রোগীর মধ্যে দেখা যায়। নিউরোলজিস্টরা মনে করেন, অগোছালো জীবনযাত্রা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের জন্য মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়ে। এ সমস্যা একেবারে নিরাময় সম্ভব নয়। তবে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভাসে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া যায়।ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জি নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে আসুন জেনে নিই, মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে ডায়েট লিস্টে যেসব খাবার রাখতে পারেন-বাঁধাকপির ম্যাগনেশিয়াম, ওমেগা ৩ ও ফাইবার, বাঁধাকপির স্যুপ ও স্মুথি বা সালাদ। এসব খাবার মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়। এ ছাড়া রয়েছে গাজর ও মিষ্টি আলু।গাজর ও মিষ্টি আলুতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। আরও রয়েছে ভিটামিন সি, বি২, বি৬, নিয়াসিন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ ও ফসফরাস, যা ব্যথা দূর করে।মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে চেরি ফলের জুসও বেশ উপকারী। চেরিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনলস নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। চেরি স্ট্রেস দূর করে, মাথাব্যথা কমায়।মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে আরেকটি বিশেষ খাবার হচ্ছে মাশরুম। মাশরুমে ম্যাগনেশিয়াম ও রিবোফ্লোবিন থাকায় মাইগ্রেন কমে।আদার অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি গুণ মাইগ্রেনের ব্যথা কমায়। তাই মাইগ্রেনের ব্যথা কমাতে আদা পানি খেতে পারেন। অথবা আদা কুচি চিবোতেও পারেন।প্রসঙ্গত, চকলেট, অ্যালকোহল, ডিম, দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্য, পেঁয়াজ, টমেটো, ময়দার রুটি মাইগ্রেনের অ্যাটাকের সময় ভুলেও খাবেন না। ব্যথা হলে প্রচুর পরিমাণে পানি খান।

জুলাই বিপ্লবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা

জুলাই বিপ্লবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন আন্দোলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবির) সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে ‘জুলাই-আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী আন্ডারগ্রাজুয়েট পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা’ নিয়ে গবেষণা শীর্ষক বিশেষ সেমিনার এ তথ্য জানানো হয়। বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবির প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ড. মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাবির সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আবুল কালাম আজাদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহীদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। সেশন চেয়ার হিসেবে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাবির এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক। গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ক্নিনিকাল সাইকোলজিস্ট সাদিয়া শারমিনসহ দুজন গবেষক। গবেষণা ফলাফলে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে তিনি জানান, জুলাই বিপ্লবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে বাংলাদেশের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফলে বাংলাদেশের স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থীরা, যারা অন্তত ৫ দিন এই আন্দোলনে গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অনেকেই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাসজুড়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে গবেষণার কাজ পরিচালিত হয়। গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল জুলাই-আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী বিপ্লোবত্তর মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য পরিমাপ করা। মানসিক স্বাস্থ্যর অনেক দিক থাকলেও এঙ্কসাসি, ডিপ্রেশন অ্যান্ড পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারকে (পিটিএসডি) সামনে রেখে এই গবেষণার কাজ পরিচালনা করা হয়। যেখানে ৩৭৫ জন শিক্ষার্থীর যাদের বয়স ১৭-২৮ বছর তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে ২৬ জন ডাটা সংগ্রহকারীদের প্রায় ৩ মাস সময় লেগেছিল। অনুষ্ঠানে মামুন আহমেদ জুলাই বিপ্লবের সময় মানুষের আত্মত্যাগ ও সার্বিক পরিস্থিতি কীভাবে মানসিক আঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায় তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের ঘটনা প্রচণ্ড মানসিক আঘাত ও বিষণ্ণতার কারণ হয়েছিল। আন্দোলনে আহত কিংবা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিরা এখনও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এমনকি যারা বাসায় থেকে সব দেখেছেন, তারাও ওইসব ঘটনা দেখে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’ উমামা ফাতেমা বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে যথেষ্ট অবদান রাখা সত্ত্বেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না, যা তাদের মানসিকভাবে আঘাত করছে। এ ছাড়া বিপ্লবে প্রথম সারিতে থাকা মেয়েদের অবদান যথেষ্ট প্রশংসিত হচ্ছে না, যা তাদের মনে হতাশার সৃষ্টি করছে।’ তিনি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কাউন্সেলিং পরিষেবা প্রকল্পের ওপর গুরুত্ব দেন এবং বাড্ডা, বাসিলা, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন রেড জোনে গবেষণা চালানোর আহ্বান জানান।

ইয়ারফোন ব্যবহারে বাড়ছে বিপদ, সমাধানের উপায়

হেডফোন বা ইয়ারফোনের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণরা এটি বেশি ব্যবহার করছেন। অনেকেরই ধারণা, সাধারণ হেডফোনের তুলনায় নয়েজ ক্যানসেলিং’ হেডফোন বা ইয়ারফোন অনেক বেশি সুরক্ষিত। তবে চিকিৎসকরা বলছেন অন্য কথা। ‘নয়েজ ক্যানসেলিং’ হেডফোনের স্পিকার এমনভাবে তৈরি, যাতে বাইরের শব্দ ভেতরে না ঢোকে। অর্থাৎ এই হেডফোন কানে দিলে আপনি বাইরের কোলাহল বা শব্দ শুনতে পাবেন না। ট্রেনে বা বিমানে যারা লম্বা সফর করেন, তারা এমন হেডফোন বা ইয়ারফোনই বেশি ব্যবহার করেন। অনেককেই বলতে শুনবেন, ‘নয়েজ ক্যানসেলিং’ ইয়ারফোন ব্যবহার করলে ক্লান্তি কেটে যায়, ঘুমও নাকি ভালো হয়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, এমন হেডফোনও কানের জন্য ক্ষতিকর। হেডফোন বা ইয়ারফোনে ‘অ্যাকটিভ নয়েজ কন্ট্রোল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা বলা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা আদৌ বিজ্ঞানসম্মত নয়। বাইরের শব্দ না ঢুকলেও এমন হেডফোনে উচ্চস্বরে কেউ যদি গান চালিয়ে শোনেন, তাহলে কানের ক্ষতি হতে বাধ্য। একটানা এমন হেডফোন ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের ওপরে চাপ পড়বে। ক্ষতি হবে স্নায়ুরও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো রকম হেডফোন বা ইয়ারফোনকেই সুরক্ষিত বা নিরাপদ নয়। সবটাই বিজ্ঞাপনী চমক। তরুণদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা মাত্র। নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন বা ইয়ারফোন বলে যা বিক্রি হয়, তার সবগুলো বিজ্ঞানসম্মতভাবে তৈরি হয় না। ফলে শব্দমাত্রা যদি ৮০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যায়, তা হলে কানের ক্ষতি হবেই। কতটা ক্ষতি হয় কানের: সারাক্ষণ হেডফোন কানে গুঁজে রাখলে একটানা শব্দে অন্তঃকর্ণের ককলিয়া অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কানের কোষগুলো নষ্ট হতে থাকে। শুকিয়ে যেতে থাকে কানের ফ্লুইড। কান যেহেতু সারা শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে, তাই কানের ক্ষতি হওয়া মানে তার প্রভাব পড়বে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতেও। যেকোনো হেডফোনই যদি ১৫ মিনিটের বেশি কানে রাখা হয়, তাহলে অন্তঃকর্ণের যে পরিমাণ ক্ষতি হবে, তা সহজে সারানো সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে ইএনটি ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, ‘হেডফোন বা ইয়ারফোন যত উন্নত প্রযুক্তিরই হোক না কেন, তাতে একটানা গান শুনলে বা কথা বললে, কানের সূক্ষ্ম কোষ নষ্ট হয়ে যায়। প্রচণ্ড কম্পাঙ্কের শব্দকে কানের কোষগুলো ইলেকট্রিকাল ইমপালসে বদলে দেয়। তখন কানের কোষগুলো হয় হঠাৎই কাজ করা কমিয়ে দেয়, না হলে একেবারেই বন্ধ করে দেয়। এর নানা রকম প্রভাব পড়ে শরীরে।’ এ ক্ষেত্রে কানের ক্ষতি হতে পারে দুই রকমভাবে। চিকিৎসকের কথায় এক, ‘টেম্পোরারি থ্রেশহোল্ড শিফ্‌ট’ অর্থাৎ, কম সময়ের জন্য কানে শুনতে না পাওয়া অথবা কান ভোঁ-ভোঁ করা। এই সমস্যা তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যায়। দুই, ‘পার্মানেন্ট থ্রেশহোল্ড শিফ্‌ট’, যাতে পাকাপাকিভাবে কানের ক্ষতি হয়। বধিরতা চিরস্থায়ী হয়ে যেতে পারে। সমাধান কিসে: হেডফোন বা ইয়ারফোনের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়। কর্মক্ষেত্রেও অনেককেই তা ব্যবহার করতে হয়। বিশেষ করে কলসেন্টারে যারা কাজ করেন, তাদের সর্বক্ষণ হেডফোন ব্যবহার করতে হয়। সে ক্ষেত্রে সমাধানের উপায় হিসেবে চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিলেন, হেডফোন বা ইয়ারফোনের ব্যবহার কমাতে হবে। কাজের জায়গায় ব্যবহার করতে হলে একটানা করবেন না। ২০ মিনিট অন্তর কানকে বিশ্রাম দিন। অন্তত ১৫-২০ মিনিটের জন্য হেডফোন খুলে রাখুন বা ইয়ারফোনে কিছু শোনা বন্ধ করুন। কাজের জায়গা থেকে ফিরে আর হেডফোন, ইয়ারফোন বা ব্লু-টুথ স্পিকার কানে লাগিয়ে রাখবেন না। ফোনে কথা বলতে হলে এমনিই বলুন। তাতেও ক্ষতি কম হবে। দরকার যখন নেই, তখন এ সবের ব্যবহার করবেন না। খুব প্রয়োজন ছাড়া কানে উচ্চস্বরের শব্দ সব সময়ে ঢুকতে থাকলে ভবিষ্যতে বড়সড় শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে। শ্রবণশক্তি নষ্টও হয়ে যেতে পারে।

মাইগ্রেনের ব্যথা হলে খাওয়া ঠিক নয় যেসব খাবার

অনেকেরই মাইগ্রেনের সমস্যা আছে। একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানে এ ব্যথা কতটা মারাত্মক। অনেকের ক্ষেত্রে এই ব্যথা একবার শুরু হলে তিন দিনের আগে সারতেই চায় না। মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় সময় বমি বমি লাগে, নাকে গন্ধ পান না। এসময় তাদের খেতে কষ্ট হয়, ক্লান্ত লাগে, মেজাজ পরিবর্তন হবে। হাত, পায়ে ব্যথা হয়। আবার আলোর দিকে তাকাতেও তাদের সমস্যা হয়। কোন কোন খাবার খাবেন না পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে মাইগ্রেনে আক্রান্তের প্রবণতা বেশি। কারও যদি পারিবারিক ইতিহাসে দেখা যায়,মাইগ্রেনের সমস্যা ছিল, তাহলে সেই ব্যক্তিও মাইগ্রেনের সমস্যার শিকার হবেন। মাইগ্রেন হলে কিছু কিছু খাবার খাওয়া ঠিক নয়। তা না হলে মাথাব্যথায় ভুগতে হতে পারে। যেমন- চা, কফি: মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে চা, কফি বেশি একদমই খাওয়া ঠিক নয়। এতে ক্যাফেইন থাকে। অতিরিক্ত পরিমাণে ক্যাফেইন খেলে আপনার মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়তে থাকবে। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। অ্যালকোহল: যারা মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছেন কিংবা মাথা ব্যথার ঝুঁকি কমাতে চান, তারা ভুলেও অ্যালকোহল খাবেন না। এতে আপনার মাথা যন্ত্রণা বাড়তে থাকবে। চকোলেট: চকোলেটে ক্যাফেইন এবং বিটা-ফেনাইলথাইলামাইন থাকে। এসব উপাদান আপনার মাইগ্রেনের ব্যথাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। এ কারণে চকোলেট খেলে অল্প মাত্রায় খান। এটি খেলে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়তে থাকবে। পেঁয়াজ: অনেকের পেঁয়াজ খেলেও মাইগ্রেনের ব্যথা বাড়ে। পেঁয়াজে এমন কিছু যৌগ রয়েছে, যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। পিনাট বাটার: নিয়মিত চীনা বাদাম, মাখন কিংবা পিনাট বাটার খেলেও অনেক সময় মাথাব্যথা হতে পারে। এগুলো আবার অনেক সময় মাইগ্রেনের সমস্যাকে বাড়িয়ে দেয়। যদি আপনি মাইগ্রেনে আক্রান্ত থাকেন, তাহলে এই খাবারগুলি এড়িয়ে চলুন। তাছাড়াও মাইগ্রেনের রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ মতন ওষুধ খাওয়া দরকার।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন

রিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) শিক্ষক সংকট নিরসনে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের গেটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ব্যানার টানিয়ে দেয় তারা। শিক্ষার্থী মো. নাইম ও মো. আজিম জানিয়েছেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এক দিনের জন্য শিক্ষকের শতভাগ পদ পূরণ হয়নি। অবসর থেকে শুরু করে বিভিন্ন কারণে শিক্ষক বদলিতে এ সংকট আরও প্রখর হয়ে দেখা দেয়। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর ৩টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে সরিয়ে দিলে ওই বিভাগ ৩টি একেবারে শিক্ষকশূন্য হয়ে পড়ে। এ ছাড়া প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক সংকট রয়েছে। যার প্রভাব ফেলছে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায়। তা ছাড়া শিক্ষক সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হলেও আশ্বাস ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি। এ কারণে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা। তারা আরও জানান, বর্তমানে ৩৩৪ পদের বিপরীতে ১৭৩টি পদ শূন্য। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। যে কারণে রুটিনমাফিক ক্লাসও হচ্ছে না। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘বিভিন্ন সময় অধ্যক্ষের মাধ্যমে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়। এরপর অধ্যক্ষ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে শিক্ষক সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়। কিন্তু শিক্ষক সংকট আর দূর হয় না, যার প্রভাব ফেলছে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং চিকিৎসাসেবায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।’ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে বলে জানান শিহাব উদ্দিন। শেবাচিমের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার মোহাম্মদ ফয়জুল বাশার বলেন, ‘শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে আমিও একমত। এ সংকট বর্তমানে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফেইস-৩-‍এ তিনটি বিষয়, সেই ৩টি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ শিক্ষক শূন্য। কমিউনিটি মেডিসিনে কোনও বিশেষজ্ঞ শিক্ষক নেই। এমনকি পোস্ট গ্রাজুয়েশনেও শিক্ষক নেই। মাইক্রোবায়োলজি ও প্যাথলজি বিভাগের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক শূন্য। আর শিক্ষক সংকট কলেজের জন্মলগ্ন থেকেই চলে আসছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনজন শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। তাদের বদলির আদেশ প্রত্যাহার এবং শূন্যপদ পূরণ করা হবে। এ বিষয়ে মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমিও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, তারাও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন। সেখান থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে বদলিকৃতদের আদেশ প্রত্যাহার এবং শূন্যপদ পূরণ করা হবে। আমার বিশ্বাস, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে।’

পিরিয়ডের ব্যথা কমবে ঘরোয়া পাঁচ উপায়ে

বেশির ভাগ নারীরই পিরিয়ডের সময় অসহ্য যন্ত্রণার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই যন্ত্রণা বিশেষ করে শুরু হয় তলপেট থেকে, যা পরে কোমর, ঊরু ও পা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকের সারা শরীর ব্যথা কিংবা বমিও হতে দেখা যায়। এই যন্ত্রণা থেকে রেহাই পেতে কিছু ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে- হালকা ব্যায়াম: বিশেষজ্ঞরা পিরিয়ডের সময় বিভিন্ন ধরনের যোগাসন, বিশেষ করে প্রাণায়াম এবং শবাসন করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ধরনের ব্যায়াম পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর পাশাপাশি শরীরকে অনেকটাই শিথিল করে। ক্যামোমাইল চা: জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা অনুসারে, ক্যামোমাইল চা-তে ব্যথা উপশমকারী বৈশিষ্ট্য বর্তমান। এটি জরায়ুকে শিথিল করতে এবং প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উৎপাদন হ্রাস করতে অত্যন্ত সহায়ক। তাই এ সময় পান করতে পারেন ক্যামোমাইল চা। যারা ক্যামোমাইল চা পান করতে চান না, তারা এর পরিবর্তে গ্রিন টি লেবু মিশিয়ে পান করতে পারেন। আদা: পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে আদার কথা আয়ুর্বেদে উল্লেখ রয়েছে। আদা কার্যকরভাবে পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে পারে। এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা কমায়, অনিয়মিত পিরিয়ডকে নিয়মিত করে এবং ক্লান্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতেও সহায়তা করে। হিটিং প্যাড: পিরিয়ডের সময় হিটিং প্যাড বা হট ব্যাগ গর্ভাশয়ের মাংসপেশির মোচড় থেকে স্বস্তি দেয়। এ সময় পিঠের ব্যথা কম করার জন্য পিঠের নিচের অংশে হিটিং প্যাড রাখা যেতে পারে। হালকা গরম পানিতে গোসলের পাশাপাশি গরম তরল পদার্থ পান করলেও স্বস্তি পাওয়া যায় অনেকটাই। নারকেল বা তিলের তেলের মালিশ: আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে, নারকেল বা তিলের তেলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ও লিনোলিক অ্যাসিড থাকে। তাই পিরিয়ডের সময় তলপেটে নারকেল বা তিলের তেলে ম্যাসাজ করলে মাংসপেশিতে ব্যথা অনেকটাই কমে যায়।