রাজশাহীতে নারী চিকিৎসককে বাসা থেকে তুলে নিয়ে অপহরণ


December 2024/Rehana.jpg
শাকিরা তাসনিম দোলার মা রেহেনা পারভীন

রাজশাহীতে এক নারী চিকিৎসককে বাসা থেকে তুলে নিয়ে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই সময় তার মাকে দেওয়ালে মাথা ঠুকে আহত করা হয়েছে। নারী চিকিৎসকের সঙ্গে তার বাবাকেও তুলে নেওয়া হয়েছিল। পথে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানা এলাকায় তাকে ফেলে গেছেন অপহরণকারীরা। পরে ভুক্তভোগী চিকিৎসকের বাবাকে স্বজনদের হাতে হস্তান্তর করে পুলিশ।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। অপহৃত চিকিৎসকের নাম শাকিরা তাসনিম দোলা (২৬)। তিনি রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ থেকে সবেমাত্র ডেন্টাল বিডিএস শেষ করেছেন। তার বাবা আবু তাহের খুরশিদ বকুল পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

বকুল তার পরিবার নিয়ে নগরের চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় নিজের বাসায় থাকেন। পাঁচতলা বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকেন তারা। সোমবার ভোরে এই বাসা থেকেই বাবা-মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সোমবার সন্ধ্যা ছয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই নারী চিকিৎসকের বাবা রাজশাহীতে ফিরে আসেননি। তবে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, ‘সোমবার বিকাল চারটার দিকে ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসকের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন এসে তার বাবাকে রাজশাহীর উদ্দেশে নিয়ে গেছে।’

অপহরণের শিকার ডাক্তার শাকিরার মা রেহেনা পারভীন ওরফে শিউলিকে (৫১) গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালেই কথা হয় তার সঙ্গে।

তিনি জানান, সোমবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য তার স্বামী মসজিদে যান। এ সময় তিনি বাইরের ফটকে তালা লাগিয়ে চাবি সঙ্গে নিয়ে যান। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর অপহরণকারীরা তার স্বামীকে জিম্মি করে। তারা চাবি নিয়ে এসে বাইরের ফটক খুলে ভেতরে ঢোকেন।

এ সময় অপহরণকারীরা রেহেনা পারভীনকে ধরে দেওয়ালের সঙ্গে মাথা ঠুকে দেন। তার মাথায় তালা দিয়ে আঘাত করেন। এরপর তারা তাকে বিছানায় ফেলে গলা চেপে ধরেন। তিনি পড়ে গেলে বাবা-মেয়েকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান অপহরণকারীরা। অপহরণকারীরা চলে যাওয়ার পর খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন এসে রেহেনা পারভীনকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

রেহেনা পারভীন জানান, তার স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, মাইক্রোবাসে চালকসহ অপহরণকারীরা ছয়জন ছিলেন। তাকে তোলার পরেই মুখ বেঁধে ইনজেকশন পুশ করা হয়। তার চেতনা ফিরে এলে তাকে মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

এ নিয়ে এনামুল হক বলেন, ‘সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সলঙ্গা থানার ভেংড়ি এলাকার লোকজন অপহরণের শিকার শাকিরার বাবাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। বিকাল চারটার দিকে স্বজনরা এসে তাকে নিয়ে গেছেন।’

রাজশাহী নগরের চন্দ্রিমা থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, ‘অপহরণের মূলহোতা হিসেবে তারা তানভীর খান তাজ রওশন আলম নামের একজনের নাম পেয়েছেন। কেউ বলছেন, ওই ছেলের সঙ্গে নারী চিকিৎসকের বিয়ে হয়েছিল। কেউ বলছেন, বিয়ে হয়নি। তার নেতৃত্বেই ওই চিকিৎসককে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে পরিবার বলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরিবার মামলা করতে চায়। এজাহার দিলে মামলা রেকর্ড করা হবে।

ঢাকাওয়াচ২৪ এর খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন ।
ঢাকাওয়াচ২৪ডটকমে লিখতে পারেন আপনিও ফিচার, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইফস্টাইল, ভ্রমণ ও কৃষি বিষয়ে। আপনার তোলা ছবিও পাঠাতে পারেন dhakawatch24@gmail.com ঠিকানায়।
×