লোকমুখে সিটি করপোরেশন পার্ক! কাগজে কলমে হাসিনার নামই বহাল
- সিলেট প্রতিনিধি
- প্রকাশঃ ০৪:২২ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

সিলেটে ছাত্রজনতার তোপের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনার নামে নির্মিত শেখ হাসিনা শিশু পার্কের নাম পরিবর্তন করে দেয়া হয় সিলেট সিটি করাপোরেশন শিশু পার্ক। তবে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এখনো কাগজে কলমে শেখ হাসিনা শিশু পার্ক নাম রয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তি দেশের বিভিন্ন স্থানে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন হলেও সিলেটে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে এটির নাম কাগজে কলমে এখনো পরিবর্তন হয়নি।
সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমায় এলাকায় সুরমা নদীর পাড়ে ৩ দশমিক ৭৭ একর জমির উপর ২৬ দশমিক ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় পার্কটি। নামকরণ জটিলতায় প্রায় ১৫ বছর আটকা থাকার পর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাসিনার নামেই হবে পার্ক- এমন শর্তে চালু হয় পার্কটি।
জানা যায়, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ প্রয়াত এম. সাইফুর রহমানের উদ্যোগে এই পার্ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেসময় মাটি ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপন, দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণসহ পার্কের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়। তখন পার্কটির নামকরণ এম. সাইফুর রহমানের নামে নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতা ছাড়লে বন্ধ হয়ে যায় পার্কটির কাজ। অভিযোগ রয়েছে, সাইফুর রহমানের নাম থাকায় সিলেট সিটি করপোরেশনের তৎকালীন আওয়ামী লীগের মেয়র দীর্ঘ দিন পার্ক চালুর বিষয়ে গড়িমসি করেন।
এ নিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারের বলেন, ‘ছাত্রজনতার তোপের মুখে গত ৫ আগস্ট পার্কটির নাম ভেঙ্গে ফেলা হয়। এর পর থেকে যারা ঠিকাদারি দায়িত্বে আছে, তারা কি নামে চালাচ্ছে সেটি আমাদের জানা নেই। তবে আমরা ঊর্ধতন মহলকে জানিয়েছি। আশা করি, সব নিয়ম মেনেই এটির নাম পরিবর্তন হবে। জনগণ যা চায় তাই হবে।’
সরেজমিনে পার্কটি ঘুরে দেখা যায়, পার্কের প্রবেশ টিকিটের গায়ে লিখা সিলেট সিটি করপোরেশন পার্ক এবং ছাত্রজনতার তোপে শেখ হাসিনার নামটি গুড়িয়ে দেয়া হয়। আওরঙ্গরপুর ট্রেডিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে পার্কটি পরিচালনা করছে। তবে পার্কটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারিরা এ বিষয়ে অফিসিয়াল কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হোন নি।
দীর্ঘ আন্দোলন আর সংগ্রাম দিয়ে ফ্যাসিস্টমুক্ত করা ছাত্রদের দাবি হাসিনার নাম কাগজে কলমে বাদ দিতে হবে। এ বিষয়ে সাদি আহমদ নামের শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার আমাদের ভাইদের রক্তের বিনিময়ে দেশ থেকে ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছি। দীর্ঘ ৬ মাস অতিবাহিত হলে এখনো কেন কাগজে কলমে হাসিনার নাম পরিবর্তন হয়নি।’