কুয়াকাটায় ১০ দোকানে তালা দিলেন বিএনপি নেতার ছেলেরা
- পটুয়াখালী প্রতিনিধি
- প্রকাশঃ ১২:৫৬ এম, ২৯ মার্চ ২০২৫

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লীর দুই ছেলে ১০টি দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে সৈকতের পাশে শুঁটকি মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। দোকানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগে দোকান না খুলতে পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা জানান, প্রায় ছয় বছর আগে বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে তারা দোকান ভাড়া নেন এবং অগ্রিম হিসেবে ১ থেকে ১.৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। জমির মালিকানা দাবি করেন তিন ব্যক্তি। তারা হলেন কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লী, রাশেদুল-আফতাব ও বেল্লাল মোল্লা।
দোকানিরা বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার বৈঠকের চেষ্টা করলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লীর ছেলে লতাচাপলী ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মুসুল্লী দোকানিদের নতুন চুক্তিতে রাজি হতে চাপ দেন। কিন্তু জমির মালিকানা নির্ধারণ না হওয়ায় তারা এতে রাজি হননি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে রিয়াজ মুসুল্লী ও তার ভাই মহিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালাউদ্দিন মুসুল্লী লোকজন নিয়ে দোকানগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দোকানি জানান, তারা বেল্লাল মোল্লার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলেন এবং তাকে অগ্রিম টাকা দিয়েছেন। এখন তারা নতুন করে কারও সঙ্গে চুক্তি করতে চান না। তারা বলেন, আমাদের জীবিকা শুঁটকি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। গত এক মাস রোজায় তেমন বেচাকেনা হয়নি, ঈদের বাজার ধরতে না পারলে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাব।
বেল্লাল মোল্লা দাবি করেন, ১৯৯৬ সালে তিনি পটুয়াখালী পৌরসভার কমিশনার মিলন মিয়ার স্ত্রী উম্মে সালমার কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন এবং সেখানে দোকান নির্মাণ করেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন কোনো বিরোধ ছিল না, কিন্তু সম্প্রতি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোকান দখল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জমির মালিকানা দাবি করা রাশেদুল ও আফতাব জানান, ১৯৭০ সালে লাল মিয়া ৫ একর ৯৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেন, যা তার ওয়ারিশরা তাদের আমমোক্তারনামা দেন। এ জমির মালিকানা নিয়ে বর্তমানে দেওয়ানি মামলা চলছে।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন ঘরামী বলেন, সভাপতির দুই ছেলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এ কাজ করেছে। এটি দলের জন্য বড় ক্ষতি।
এদিকে, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসুল্লী দাবি করেন, জমির বৈধ মালিক আমি। যারা আমার সঙ্গে চুক্তি করেছে, তাদের দোকান খুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যরা অবৈধভাবে জায়গা দখল করে আছে।
তার ছেলে রিয়াজ মুসুল্লী বলেন, এ জমি আমার বাবার। আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি, কিন্তু সমাধান না পেয়ে তালা দিতে বাধ্য হয়েছি।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তারা দ্রুত তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন এবং ঈদের আগে আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পারেন।