ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বস্তির ঈদযাত্রা
- কুমিল্লা প্রতিনিধি
- প্রকাশঃ ০৩:৪৬ পিএম, ২৯ মার্চ ২০২৫

দুদিন পর ঈদ। এরমধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রতিবছর ঈদে ঘরমুখো মানুষকে যানজটের কবলে পড়ে হয়। তবে এ চিত্র এবার ভিন্ন।
ঈদযাত্রায় স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছেন মানুষ। সড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। কুমিল্লার অংশের ১০৫ কিলোমিটার এলাকার যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে যানবাহনের ধীরগতি থাকলেও নেই কোনো যানজট। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি অপরাধ দমনে চেকপোস্ট বসিয়ে সড়কে রয়েছেন সেনাবাহিনী। সহযোগিতায় আছেন কমিউনিটি পুলিশিং, রোভার স্কাউট ও আনসার সদস্যরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে যানজটপ্রবণ ১২টি হট স্পট রয়েছে। যেখানে উল্টো পথে গাড়ি চলাচল, মহাসড়কে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানামা এবং ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে পথচারীদের সড়ক পারাপারসহ নানা অনিয়মের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে যানজট। তাই এসব অপরাধ দমনে বাড়তি জনবল মোতায়েন করেছে হাইওয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। ১০৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় এক হাজারের অধিক পুলিশ সদস্য, দুই শতাধিক রোভার স্কাউট সদস্য এবং সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্য নিয়োজিত আছেন।
এদিকে মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে রাতে যানবাহনে ডাকাতের ও ছিনতাই বন্ধ করতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে ২৪ ঘণ্টা টহল অব্যাহত রেখেছে হাইওয়ে পুলিশ। রাতে মহাসড়কে সন্দেহ জনক কাউকে দেখলেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জন ডাকাত, ৯ জন ছিনতাইকারী এবং চারজন চোর গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি রামদা, একটি চাইনিজ কুঠাল, বিভিন্ন সাইজের ১১পিস ছুরি এবং ১০টি লোহার রড জব্দ করা হয়।
শনিবার (২৯ মার্চ) সরেজমিন মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা, শহীদনগর বাসস্ট্যান্ড, চান্দিনার মাধাইয়া বাসস্ট্যান্ড, ইলিয়টগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, সদর দক্ষিণের সুয়াগাজী বাজার (উভয়মুখী), নুরজাহান হোটেলের সামনে কাটা, কোটবাড়ি ইউটার্ন (উভয়মুখী), জাগুরঝুলি কাটা, বুড়িচংয়ের নাজিরা বাজার ইউটার্ন এবং চৌদ্দগ্রাম বাজারসহ চিহ্নিত ১২টি হটস্পট ঘুরে দেখা গেয়েছে কোথাও কোনো যানজট নেই। তবে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে কিছুটা ধীর গতি।
এছাড়াও মহাসড়ক ঘেঁষা বাজারগুলোতে পণ্য উঠানামায় মাঝে মাঝে অস্থায়ী জট সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দেখা মাত্রই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছেন হাইওয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। এতে করে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
তিশা পরিবহনের যাত্রী ছিফাতুল্লাহ জাইম বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় স্বস্তিদায়ক বলা যায়। ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এসেছি মাত্র আড়াই ঘণ্টায়। এটা বিশ্বাস করা কষ্ট কর। কারণ অন্যান্য বছর যানজটের কারণে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগতো। পরো সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ছিল প্রশংসনীয়। এতে বুঝা যায় প্রশাসন চাইলে সব কিছুই সম্ভব।
স্টারলাইন পরিবহনের যাত্রী আবু সুফিয়ান সুমন বলেন, পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। দুশ্চিন্তায় ছিলাম কখন বাড়ি পৌঁছবো। শুকরিয়া সব শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছি। মনে হচ্ছে ৩ ঘণ্টায় ফেনী যাবো। ভোগান্তি ছাড়া এটাই আমার প্রথম ঈদ যাত্রা।
মিয়ামী পরিবহনের চালক মাইনুল হাসান জানান, এবার ঈদ ছুটিতে মাহসড়কে গাড়ি চালিয়ে মজা পাচ্ছি। কোথাও যানজট নেই। ২ থেকে আড়াই ঘণ্টায় পৌঁছে যাচ্ছি কুমিল্লায়। পূর্ব নির্ধারিত ভাড়ায় এবার যাত্রী পারাপার করছি।
কুমিল্লা রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশ সুপার এডিশনাল ডিআইজি (সুপারনিউমারি) মো. খাইরুল আলম বলেন, মহাসড়কে ঈদ যাত্রায় যাত্রীদের বিড়ম্বনা কমাতে কুমিল্লা রিজিয়নে হাইওয়ে সেক্টরের তত্ত্বাবধায়নে ২২টি চেকপোস্ট, দিন-রাত ৭২টি টহল টিম, যানবাহন চেকিং টিম ২২, ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ টিম ৩৮টি, বাসস্ট্যান্ড গুলোতে চেকিং টিম ১৩টি, কুইক রেসপন্স টিম ২২টি, একটি কন্ট্রোলরুম ও অস্থায়ী কন্ট্রোলরুম ছয়টি এবং একটি স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, কমিউনিটি পুলিশিং, রোভার স্কাউট ও আনসার সদস্যরা সহযোগিতায় করে যাচ্ছেন। কয়েক দিনে কুমিল্লার রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১০জন ডাকাত, ৯ জন ছিনতাইকারী এবং চারজন চোর গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি রামদা, একটি চাইনিজ কুঠাল, বিভিন্ন সাইজের ১১পিস ছুরি এবং ১০টি লোহার রড জব্দ করা হয়। ছিনতাই হওয়া ৪১ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
কুমিল্লা ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের ১২ বীর ব্যাটালিয়নের মেজর সানিউল আলম বলেন, সড়কে যানজটের কারণগুলো চিহ্নিত করে হটস্পটগুলোতে চেক পোস্ট বসিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। সড়ক আইন ও ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা অসাধু চালক ও পরিবহনের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।