
দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত প্রার্থীর নির্বাচনী পথযাত্রায় সমাবেশে বিএনপি ও সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “এক পক্ষ ভারতীয় গোলামির জন্য অপেক্ষা করছে, আরেক পক্ষ আজাদীর আকণ্ঠে ডুবে আছে। এক পক্ষ ফ্যামিলি কার্ডের নামে চাঁদাবাজির নতুন লাইসেন্স দিয়ে জনগণের অর্থ লুটপাটের মিশনে নেমেছে।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, “এই এলাকার মানুষ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ। আগে দিতে হতো ১০০ টাকা, এখন ৩০০ টাকা। গত ১৫ মাসে চাঁদাবাজদের অত্যাচারে মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে ভয়ে বাড়িতে বসে থাকছে।”
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ড না দিয়ে এন্টি-চাঁদাবাজি কার্ড দেন।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “এক পক্ষ শহীদ হাদীকে গিনিপিগ বলছে, আর সারাদেশের মানুষ হাদী হতে চাইছে।”
স্থানীয় সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, “এ অঞ্চলে পাথর খনি, কয়লা খনি ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হয়নি। মানুষের কর্মসংস্থান হয়নি, শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। হাসিনা সরকারের লুটেরা বছরের পর বছর সম্পদ লুট করেছে।”
মাদক সমস্যার উপর গুরুত্ব দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “রাজনীতিবিদরা বছরের পর বছর অন্যের সন্তানদের নিজেদের অপকর্মে যুক্ত করেছে, মাদকে ডুবিয়ে জীবন ধ্বংস করেছে। দিনাজপুরবাসী, এখন সময় এসেছে পরিবর্তনের। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশ পরিবর্তনের নির্বাচন। আপনাদের বেছে নিতে হবে, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, মাদক নাকি দেশ পরিবর্তন।”
সমাবেশে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, “বিএনপি যদি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে, তবে তারা আবারও বিপদের মুখে পড়বে। এমন পদক্ষেপ দেশকে ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। যাদের কারণে দেশের মানুষ নির্যাতিত ও বঞ্চিত হয়েছে, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
ভোটারদের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “ধানের শীষের বাইরে ভোট দিলে দেখে নেওয়া হবে বলে ভোটারদের ভীতি দেখানো হচ্ছে। বিকল্প পন্থায় কেউ ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে, হাসিনার মতো তাদেরও দিল্লি পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দিল্লির সবুজ সংকেতে ফ্যাসিস্টরা দেশে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ তাদের লাল কার্ড দেখানোর জন্য প্রস্তুত। আমরা ১১ দলীয় জোট সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণ ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ডা. আব্দুল আহাদ, এনসিপি ও জোট সমর্থিত প্রার্থী। তিনি পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ীবাসীর উন্নয়নের পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন।
অন্যান্য বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুবশক্তি কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতা মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।