
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, যারা গত দেড় দশক দেশের মাটিতে ছিলেন না এবং নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করতেন, তারা ফিরে এসে এখন মামলা ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, “৬ আগস্ট থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত এসব অপকর্ম বন্ধ হয়নি। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এমনকি ফুটপাতে ভিক্ষা করা মানুষও চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন।”
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি ইঙ্গিত করে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করেছি—আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না। মজলুমের কষ্ট বোঝা উচিত। কিন্তু দেখা গেছে, বেপরোয়া গতিতে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলাবাজি শুরু হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কি সন্তানদের বুকে নিয়ে জুলাই মাসে এ জন্য লড়াই করেছিলাম? পুরোনো চাঁদাবাজের বদলে নতুন চাঁদাবাজ তৈরি হবে—এ জন্য তো আন্দোলন হয়নি।” আন্দোলনের মূল দাবি ‘We Want Justice’ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ছিল সমাজের সর্বত্র ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যুবকদের হাতে তুলে দিতে চাই জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণেরা কখনো বেকার ভাতা চায়নি। তাদের দাবি ছিল অধিকার ও ন্যায্য কাজের সুযোগ। তারা রাস্তায় নেমে বলেছিল—আমাদের অধিকার দাও, আমাদের হাতে ন্যায্য কাজ তুলে দাও।”
জামায়াতের আমির আরও বলেন, “এবারের নির্বাচনে জনগণ দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাবে। চাঁদাবাজদের, মামলাবাজদের, দখলদারদের লাল কার্ড দেখাবে।”
তিনি দাবি করেন, জনগণ আধিপত্যবাদের দাসত্বও প্রত্যাখ্যান করবে। শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, “আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে যে অপকর্মের মাধ্যমে জনগণকে কষ্ট দিয়েছে, একই ধরনের কর্মকাণ্ড ৬ আগস্টের পর থেকে নতুনভাবে শুরু হয়েছে।”