
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়ির সামনে দেশীয় অস্ত্র ফেলে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামী বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের দায়ী করেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, সোমবার দিনগত রাত আনুমানিক ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে কুতুবা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল করিমের বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই দফা তল্লাশি চালায়। তবে সে সময় কোনো অবৈধ বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। অথচ পরদিন সকালে নুরুল করিমের ৭০ বছর বয়সী মা ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সামনে একটি বস্তাভর্তি দেশীয় অস্ত্র দেখতে পান।
মাওলানা মাকসুদুর রহমান বলেন, “আমরা মনে করি এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগের দিন ভোলা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বী হাফিজ ইব্রাহিমের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার জন্য মাওলানা নুরুল করিমের বড় ভাই মাওলানা রেজাউল করিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বিপদে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “আমরা মনে করি অস্ত্র নাটক ওই হুমকির অংশ বিশেষ।”
সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়।
মাকসুদুর রহমান বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই মিথ্যা অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র ও ভয়ভীতি দেখিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করা যাবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে ভোলা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মুফতি ফজলুল করিম, কুতুবা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা নুরুল করিমসহ দলটির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এসব দেশীয় অস্ত্র আমরা পরিত্যক্ত অবস্থায় পেয়েছি। কারো কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়নি। পরবর্তীতে সেগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”