
শেরপুর-১ (সদর) আসনে নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন পরাজিত বিএনপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে এ দাবি তুলে ধরেন।
প্রিয়াঙ্কা জানান, স্থানীয়রা তাকে জানিয়েছেন যে জামায়াতের প্রার্থী ভোটারদের এক হাজার টাকা করে দিয়ে ভোট কিনেছেন। “শুধু তাই নয়, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারকেও তারা প্রভাবিত করেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে বলা হয়নি। অনেক ভোটার তাই ভোট দিতে যাননি,” বলেন তিনি।
বাজিতখিলা ইউনিয়নের দুটি ভোটকেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, “এক কেন্দ্রে মাত্র ৭ এবং অন্য কেন্দ্রে ২৭ ভোট পেয়েছে ধানের শীষ। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি অভিযোগ করেন, সদর আসনের পূর্ব এলাকার ভোট কাস্ট কম হওয়ার কারণ হলো, শুধু জামায়াতের ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হয়েছে, যারা তাকে ভোট দেবেন তাদের কেন্দ্র থেকে তাড়ানো হয়েছে।
ইসি অভিযোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, “আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। রিজিক টান দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা টিম ও ডিজিএফআই পাঠিয়ে দেখুন কিভাবে আমার ভোটারদের ভোট দিতে দেওয়া হয়নি।” এরপর তিনি আদালতের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান চান।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছিল না। জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ফোন ধরেননি বা কেটে দিয়েছেন। ইউএনওকে বললে স্ট্রাইকিং ফোর্স পাঠানো হয়, কিন্তু ১০–১৫ মিনিটের মধ্যে চলে গেলে প্রতিপক্ষ পুনরায় একই কাজ চালায়। প্রিয়াঙ্কা দাবি করেন, “সার্ভে করলে দেখা যাবে আমি ভীষণ জনপ্রিয়। সারাদেশের মানুষ আমার জন্য কাঁদছে। এইভাবে প্রশাসন ব্যবহার করে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করা আমরা চাইনি।”
শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করবেন না। “উনি (প্রিয়াঙ্কা) কি বলবেন, তা তার নিজস্ব ইচ্ছা,” যোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ অভিযোগ অগ্রাহ্য করে বলেন, “১৪ ইউনিয়নের মধ্যে ১১টিতে আমি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছি। পৌর এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছি। তাই আমি এসব বিষয় গুরুত্ব দিচ্ছি না। আইনী ব্যবস্থা নিয়ে কেউ ইসিতে গেলে আমার সেখানে কিছু করার নেই।”