
ইফতারের পরপরই ভিড় জমে জলমহালের পাড়ে, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় মাছ ধরার হিড়িক—সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাওয়াজুরী জলমহালে এমনই লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আশপাশের আট গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ একযোগে ঢুকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নিয়ে গেছে, যার আনুমানিক মূল্য ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর জলমহালের সীমানায় লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা ভেতরে প্রবেশ করে মাছ আহরণ শুরু করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাওয়াজুরী, উফতিরপাড় ও লাউগাঙ্গ এবং দিরাই উপজেলার নগদিপুর, ছোট নগদিপুর, ধীতপুর, ফুকিডর ও দৌলতপুর গ্রামের প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ এ ঘটনায় অংশ নেয়।
তথ্য অনুযায়ী, ছয় মাস আগে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের অধীনে খাস কালেকশনের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকায় কাওয়াজুরী জলমহাল ইজারা নেন গাজীনগর গ্রামের আঙ্গুর মিয়া। ইজারা পাওয়ার পর পোনা অবমুক্তকরণ ও রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাতে আরও প্রায় ২৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি।
নিয়ম অনুযায়ী, জলমহালে অন্তত আড়াই ফুট পানি সংরক্ষণ রেখে নির্ধারিত সময় শেষে মাছ ধরার কথা ছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আগামী সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ আহরণের প্রস্তুতি ছিল।
জলমহালের ইজারাদার আঙ্গুর মিয়া বলেন, “পূর্ব কোনো ঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই বিপুল সংখ্যক লোকজন জলমহালে হামলা চালায়। এতে আমার ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কম হলেও ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মাছ তারা লুট করে নিয়ে গেছে। সরকার এই জলমহাল ইজারা দিয়েছে, আমরাই ইজারা নিয়েছি কিন্তু কিছু লোক এটাকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। তারা ভবিষ্যতে যাতে এই জলমহাল কেউ ইজারা নেওয়ার সাহস না দেখায় তাই এমন লুটপাট করেছে বলে আমার ধারণা।”
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলি উল্যাহ বলেন, “জলমহাল থেকে মাছ লুটপাটের বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”