
বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জানাজা শেষে তাদের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
স্থানীয়দের জানান, আবদুস সালাম মোড়লের মা রাশিদা বেগম, মেয়ে নববধূ মিতু এবং ছোট মেয়ে লামিয়ার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নাকশায় আনার পর সকালে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিবারের কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো গ্রামে শোকের আবহ নেমে এসেছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের ১১ জনসহ মোট ১৩ জন নিহত হন। এছাড়া অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে, চার নাতি, কনে ও তার এক স্বজনসহ ১২ জন এবং মাইক্রোবাসের চালক।
জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার মিতুর সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমান (সাব্বির)-এর বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা একটি মাইক্রোবাসে করে ফিরছিলেন। পথে রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার পর রাতেই নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া, দাদি রাশিদা বেগম এবং নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ খুলনায় নিয়ে আসা হয়।