
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হলেও কৃষকদের তাৎক্ষণিক চেষ্টায় বড় অংশের বোরো ধান রক্ষা পেয়েছে। তবে নিচু জমির কিছু ফসল ইতোমধ্যে তলিয়ে যাওয়ায় আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
শনিবার সকালে হাওরের গোজাউনি বেরিবাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে দ্রুতগতিতে পানি ঢুকতে শুরু করে। এতে আশপাশের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন এলাকার জমিতে পানি প্রবেশ করতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, জনবসতি থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে এই ভাঙন তৈরি হয়। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে থাকলে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে কৃষকেরা দ্রুত ভাঙনস্থলে ছুটে আসেন। বাঁশ, টুকরি ও কোদাল নিয়ে কয়েক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তারা ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এতে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির ফসল রক্ষা পেলেও নিচু জমির কিছু অংশ পানির নিচে চলে গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে তৈরি উতারিয়া বাঁধের কারণে পানি নামতে পারছে না। এতে হাওরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসলের ক্ষতি বাড়ছে।
একজন কৃষক বলেন, ‘আমাদের অনেক জমি এখানে। এখন ধান ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’ স্থানীয় এক প্রতিনিধি বলেন, ‘কৃষকেরা দ্রুত কাজ না করলে বড় ধরনের ক্ষতি হতো, তবে কিছু জমির ধান ইতোমধ্যে ডুবে গেছে।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেখার হাওরে মোট জমি ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর, যার মধ্যে আবাদযোগ্য ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। অতিবৃষ্টির কারণে কয়েকটি এলাকায় আগেই ফসলের ক্ষতি হয়েছে। জেলায় ১৩৭টি হাওরে মোট ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ৮ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে আগাম জাতের প্রায় ২৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, জমে থাকা পানি দ্রুত সরানো না গেলে নতুন করে ভাঙন তৈরি হতে পারে, যা আরও ক্ষতির কারণ হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভাঙা বাঁধটি তাদের প্রকল্পের আওতায় ছিল না। জেলা প্রশাসন বলছে, আগাম তথ্য না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।