
কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে তীব্র মতবিরোধের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা তৃতীয় ধাপে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, উভয় পক্ষ আলোচনার একটি অভিন্ন কাঠামোতে পৌঁছাতে লিখিত খসড়া বিনিময় করেছে। তবে ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত চাহিদা’ অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, শনিবার রাত বা রোববার তৃতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
মার্কিন পক্ষের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আয়োজক দেশ পাকিস্তানের উপস্থিতিতে এবার সরাসরি ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হচ্ছে, যা আগের পরোক্ষ আলোচনার তুলনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
ইরান সরকার জানিয়েছে, আলোচনা এখন বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে অর্থনৈতিক, সামরিক, আইনি ও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পৃথক কমিটি কাজ করছে। ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে এসব আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধই এই আলোচনার প্রধান অন্তরায়। স্বাভাবিক সময়ে এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে কোনো অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনা চলমান রয়েছে এবং উভয় পক্ষ সমাধানের পথ খুঁজতে চেষ্টা করছে।