
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে এক দুর্ধর্ষ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। দিনের আলোতে রাস্তা থেকে প্রকাশ্যে এক জনপ্রতিনিধিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রুস্তম আলীকে একদল দুর্বৃত্ত অপহরণ করে নিয়ে গেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, অপহৃত এই জনপ্রতিনিধিকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দিতে অপহরণকারীরা ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
যেভাবে ঘটল অপহরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে রুস্তম আলী ঈদগাঁও থেকে ঈদগড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কের পানেরছড়া এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। এরপর তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানের দিকে চলে যায় তারা। ঘটনার কিছু সময় পরই পরিবারের কাছে ফোন করে বড় অঙ্কের এই মুক্তিপণ দাবি করা হয়। স্বজনরা জানিয়েছেন, দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ক্ষোভ ও আতঙ্ক
এই ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কের এই অংশে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটে আসছে। বুধবার একজন জনপ্রতিনিধি অপহরণের শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা সকাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি বর্তমানে একটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। দিনের বেলায় একজন জনপ্রতিনিধি নিরাপদ না থাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশি অভিযান জোরদার
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহৃতকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে। ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুরশেদ আলম জানান, পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছে এবং পাশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘অপহরণের পরপরই আমরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেছি। অপহৃতকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।’
নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক দল বর্তমানে রুস্তম আলীকে উদ্ধারে এবং অপহরণকারীদের শনাক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই জনপ্রতিনিধির মুক্তি এবং সড়কটিতে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।