
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ ও আশপাশের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও প্রাকৃতিক এলাকাকে পরিবেশগত সংকটপূর্ণ এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। অনিয়ন্ত্রিত পাথর ও বালু উত্তোলনের কারণে এসব এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিবেশগত ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সাদাপাথর, শাহ আরেফিন টিলা, রতনপুর, উৎমাছড়া, লোভাছড়া, শ্রীপুর এবং লালাখাল।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসব এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ মূল্যায়ন ও কারিগরি প্রতিবেদন তৈরির কাজ করছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ইসিএ ঘোষণা করা হবে। এরপর সেখানে পাথর উত্তোলন, বালু সংগ্রহ, মাটি কাটা ও পরিবেশের ক্ষতিকর সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব এলাকায় ব্যাপকভাবে পাথর লুটপাট ও অবৈধ উত্তোলনের কারণে নদী ও পাহাড়ি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে সাদাপাথর এলাকায় পর্যটন সৌন্দর্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক জানান, ইসিএ ঘোষণার মাধ্যমে এসব এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তবে পরিবেশকর্মীরা বলছেন, শুধু ঘোষণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে এই উদ্যোগ সফল হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সিলেটের এসব প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য স্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।