
এক দিনের ব্যবধানে আবারও সাভারের আশুলিয়ায় সংঘটিত হলো ভয়াবহ ডাকাতি। মুখোশধারী একদল ডাকাত অস্ত্রের মুখে একটি পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এ সময় নৃশংসভাবে বাড়ির মালিককে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং তার স্ত্রীর কান ছিঁড়ে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোররাতে আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকার ছায়াকুঞ্জে আব্দুল্লাহর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল দেয়াল টপকে একতলা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। পরে তারা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর নগদ ৩৫ হাজার টাকা, একটি আংটি, দুটি রৌপ্যের চেইন, একটি স্বর্ণের চেইন, একজোড়া কানের দুল, ইলেকট্রনিক পণ্য ও আসবাবসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয়।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহকে কুপিয়ে আহত করে এবং তার স্ত্রীর দুই কান ছিঁড়ে স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। একই সময় ভাড়াটিয়ারা বাধা দিতে এগিয়ে এলে ভাড়াটিয়া আজিজুল ও তার স্ত্রীর কাছ থেকেও নাকের ফুল ও পায়ের নূপুর ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন ডাকাতরা ভাড়াটিয়ার স্ত্রী পপিকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে ডাকাতরা তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
সকালে খবর পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বাড়ির মালিকের মেয়ে জানান, প্রায় ১৫ জনের একটি ডাকাত দল ঘরে ঢুকে পুরুষ সদস্যদের বেঁধে ফেলে। তিনি বলেন, “বাবার মাথা ফাটিয়ে মায়ের কান ছিঁড়ে দুল নিয়ে গেছে। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতরা ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে তছনছ করে এবং তার ব্যবহৃত কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পুলিশ ইতোমধ্যে লুট হওয়া মালামালের তালিকা প্রস্তুত করেছে।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে, গত সোমবার আশুলিয়ার চাকলগ্রাম এলাকায় আরেকটি বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার বা লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।