
অনলাইন জুয়ার অর্থ ভাগাভাগি এবং প্রায় দেড় কোটি টাকার বিশাল অংকের লেনদেনের দ্বন্দ্বে প্রাণ হারালেন টাঙ্গাইলের গোপালপুরের এক ভূমি কর্মকর্তা। আত্মহত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে দায়ী করে গেছেন, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ফেসবুক স্ট্যাটাস
বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যায় গোপালপুর উপজেলার চাতুটিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের চালের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মো. আমিনুল ইসলাম (২৭)। তিনি স্থানীয় সৈয়দপুর হাদিরা ভূমি অফিসের অফিস সহকারী এবং আজিজুর রহমান ভোলার ছেলে।
মৃত্যুর ঠিক আগে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আমিনুল দাবি করেন, গোপালপুর অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা সাদেক আরমান তাকে অনলাইন জুয়ার জালে জড়িয়েছিলেন। একপর্যায়ে সাদেক তার কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা ধার নেন। সেই টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো আমিনুলের স্বাক্ষর করা ব্যাংক চেক ব্যবহার করে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়।
ঋণ ও মানসিক চাপ
নিহতের বাবা ভোলার ভাষ্যমতে, অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে তার ছেলে প্রচুর টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। একদিকে ধারের টাকা ফেরত না পাওয়া, অন্যদিকে পাওনাদারদের ক্রমাগত চাপের কারণে তিনি প্রচণ্ড মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ভোলা বলেন, পাওনা টাকা আদায়ের কোনো আশা না দেখেই হতাশা থেকে আমিনুল চরম পথ বেছে নিয়েছেন। উল্লেখ্য, নিহত আমিনুলের তিন বছর বয়সী একটি পুত্র সন্তান রয়েছে এবং তার স্ত্রী বর্তমানে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তার ভাষ্য
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা সাদেক আরমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবারের দাবি, আমিনুল ইসলামের পাওনা সব টাকা সময়মতো মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, অগ্রণী ব্যাংক গোপালপুর শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান সোলায়মান কবীর জানিয়েছেন, সাদেক আরমান বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি সম্ভবত ছুটিতে রয়েছেন।
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত
গোপালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নবাব আলী নিহতের পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জুয়ার এই মরণনেশা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।