
মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপ কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে চলতি মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র কালবৈশাখী, বজ্রঝড় ও দাবদাহের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৩ মে) আবহাওয়াবিদেরা জানান, মে মাসে পাঁচ থেকে আট দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী হতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিন দিন ঝড়ের তীব্রতা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। একই সময়ে এক থেকে তিন দফা মৃদু কিংবা মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার একটি তীব্র রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস নিয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, মে মাসে দেশে স্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে কিছু অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিভাগভিত্তিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে সিলেট বিভাগে। সেখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫২০ থেকে ৫৪০ মিলিমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। এছাড়া ময়মনসিংহে ৩৪০ থেকে ৩৬০ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ৩৩০ থেকে ৩৫০, রংপুরে ২৬০ থেকে ২৮০ এবং ঢাকায় ২৫০ থেকে ২৭০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বরিশালে ২২০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার, রাজশাহীতে ১৭০ থেকে ১৯০ এবং খুলনায় ১৬০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বড় নদীগুলোর পানি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার সম্ভাবনা থাকলেও উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে পানির উচ্চতা বাড়তে পারে।
কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এ সময় মাটিতে আর্দ্রতার পরিমাণ ও বৃষ্টিপাত মৌসুমি কৃষিকাজের জন্য অনুকূলে থাকতে পারে। দৈনিক গড় বাষ্পীভবনের হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ মিলিমিটারের মধ্যে থাকতে পারে। পাশাপাশি সূর্যালোকের গড় স্থায়িত্ব ৫ দশমিক ৫ থেকে ৭ দশমিক ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় দেশে প্রায় ৭৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ বিভাগেই বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। সবচেয়ে বেশি বিচ্যুতি দেখা গেছে বরিশালে, যেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৭০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত বেড়েছে প্রায় ১৫১ শতাংশ এবং সিলেটে বেড়েছে ১০৪ শতাংশের বেশি।
এপ্রিলজুড়ে পশ্চিমা লঘুচাপ ও পূর্বালী বাতাসের প্রভাবে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ৬ থেকে ৯ এপ্রিল এবং ২৬ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফা বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। ওই মাসে দেশের সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় কিশোরগঞ্জের নিকলীতে। ২৮ এপ্রিল সেখানে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়।
একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে সৃষ্ট তাপীয় লঘুচাপের কারণে কয়েক দফা তাপপ্রবাহও বয়ে যায়। এপ্রিলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে, ২২ এপ্রিল সেখানে তাপমাত্রা ওঠে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে, ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।