
দুই ভাই দেশে ফিরবেন কয়েক দিন পর। বাড়িতে তাদের বিয়ের কথা চলছিল। বড় ভাইয়েরা মিলে তাই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিলেন পারস্য উপসাগরীয় দেশ ওমানের এক শহর থেকে অন্য শহরে। কিন্তু সেই আনন্দযাত্রা নিমিষেই রূপ নিল বিষাদে। ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ।
নিহত চার ভাই হলেন- চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজা পাড়ার প্রয়াত মোহাম্মদ হাসানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদ্দাহর উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ৮টার দিকে তাদের একজন আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানান যে, তারা সবাই খুব অসুস্থ বোধ করছেন এবং গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো শক্তিও তাদের নেই। এরপরই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ। পরবর্তীতে মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি ক্লিনিকের সামনে তাদের গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে চারজনকেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ গাড়ির এসি চালিয়ে রাখার ফলে ভেতরে কোনো বিষাক্ত গ্যাস (সম্ভবত কার্বন মনোক্সাইড) তৈরি হয়েছিল। ওমান বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলর রাফিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চালানোর সময় মাঝেমধ্যে গ্লাস নামিয়ে বাতাস চলাচল করতে দেওয়া উচিত, অন্যথায় অক্সিজেনের ঘাটতি বা ক্ষতিকারক গ্যাসের ঘনত্ব বেড়ে যেতে পারে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ।
রাঙ্গুনিয়ার লালানগর ইউনিয়নে এখন চলছে শোকের মাতম। বাড়িতে অসুস্থ মা এবং ছোট ভাই এনাম পথ চেয়ে ছিলেন ভাইদের ফেরার। মে মাসের ১৫ তারিখে সিরাজ ও শহিদের দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তাদের আগমনে বিয়ের ধুম লাগার কথা ছিল পরিবারে। কিন্তু সেই খুশির বদলে এখন চলছে লাশ আসার অপেক্ষা।
ওমানের চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী এবং বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, মরদেহগুলো বর্তমানে স্থানীয় পুলিশের তত্ত্বাবধানে আছে। স্পন্সরের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত হলে আগামী রবি বা সোমবারের মধ্যে চার ভাইয়ের মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।