
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিধন্য ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ থেকে সাড়ম্বরে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় নজরুল জন্মজয়ন্তী উৎসব। কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩, ২৪ ও ২৫ মে আয়োজিত এই স্মরণোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৩ মে) প্রধানমন্ত্রীর এই প্রথম ত্রিশাল সফরকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে নজিরবিহীন ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন শাখার পাশাপাশি সেখানে অতিরিক্ত সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব এবং এসএসএফ (SSF) সদস্যদের সার্বক্ষণিক তৎপরতায় ত্রিশাল এখন সম্পূর্ণ নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ত্রিশালের ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে উৎসবের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন সরকারপ্রধান। এর আগে, সকালে ঢাকা থেকে সড়কপথে রওনা হয়ে বেলা সাড়ে ১২টায় তিনি ত্রিশালের বৈলর ইউনিয়নের কানহর বাজার এলাকায় পৌঁছাবেন। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন এবং একটি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, এরপর প্রধানমন্ত্রী দরিরামপুর নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী জন্মজয়ন্তীর মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। কর্মসূচি শেষে নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক আগমনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ছেয়ে গেছে দৃষ্টিনন্দন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্যানায়। উৎসবকে কেন্দ্র করে নজরুল একাডেমি প্রাঙ্গণের এক পাশে বিশাল প্যান্ডেল এবং অন্য পাশে জমজমাট নজরুল মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে ত্রিশালবাসীর প্রত্যাশার পারদ আকাশচুম্বী। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এই সফরে উপজেলার জন্য বিশেষ কোনো বড় উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা আসতে পারে। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—নজরুল সিটি বাস্তবায়ন, সম্ভাবনাময় শিল্পাঞ্চল হিসেবে ত্রিশালকে পূর্ণাঙ্গ শিল্পনগরী ঘোষণা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন।
ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন জনগণের এই প্রত্যাশা নিয়ে বলেন, “২০০৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ত্রিশালবাসীকে বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দিয়েছিলেন। এবার আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ত্রিশালবাসীর স্বপ্নপূরণে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু উপহার দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবজুড়ে থাকছে বর্ণিল সব সাংস্কৃতিক আয়োজন, যেখানে জাতীয়, জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের শিল্পীরা নজরুলের গান, কবিতা ও নাটক পরিবেশন করবেন। এ ছাড়া উৎসবে প্রায় পাঁচ শতাধিক স্টল নিয়ে বসেছে বৈচিত্র্যময় মেলা, যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে নজরুল বইমেলা। কবি, সাহিত্যিক ও নজরুলপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় নজরুলের এই স্মৃতিধন্য প্রান্তর এখন মুখরিত।