
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় পড়া দেওয়ার অজুহাতে একটি মাদ্রাসার অন্তত চার শিক্ষার্থীকে বলাৎকার ও ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন করার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও খোদ পরিচালকের বিরুদ্ধেই এই নৃশংসতার অভিযোগ এনেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোরে পাঁচলাইশ থানার গ্রিন ভিউ আবাসিক এলাকার সালাউদ্দিন ম্যানশনে অবস্থিত ‘তাহফিজুল কোরআন গাউছিয়া তৈয়বিয়া মাদ্রাসা’য় এক শিক্ষার্থীর ওপর সর্বশেষ যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। আজ রোববার (২৪ মে) বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী অন্য শিক্ষার্থীরাও মুখ খুলতে শুরু করে।
নির্যাতনের শিকার একাধিক মাদ্রাসাছাত্র জানায়, গত রমজান মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত তাদের ওপর দফায় দফায় শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। এক ভুক্তভোগী ছাত্র জানায়, মুঠোফোনে আপত্তিকর বা নগ্ন ছবি দেখিয়ে হুজুরের বিশ্রামকক্ষে নিয়ে যাওয়া হতো তাকে। সেখানে তার শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে স্পর্শ করার পর পায়ুপথে পাশবিক নির্যাতন করা হয়। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী অন্য ছাত্ররা অভিযোগ করে বলে, শিক্ষকেরা প্রায়ই তাদের সঙ্গে বিকৃত আচরণ করতেন। বিষয়টি কাউকে জানালে হাত-পা ভেঙে দেওয়া বা পড়াশোনা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ফলে চরম ভয়ে দীর্ঘদিন তারা এই ভয়াবহ নির্যাতন চেপে রেখেছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। মুঠোফোনে তিনি দাবি করেন:
"আমি ছাত্রদের পড়াশোনার জন্য একটু চাপের মধ্যে রাখতাম। এ কারণে ছাত্ররা একজোট হয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ তুলছে। আমি বর্তমানে মাদ্রাসার বাইরে আছি। তবে ছাত্ররা অভিযোগ তোলার পর মাদ্রাসার পরিচালক আমাকে চাকরিচ্যুত করেছেন।"
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাফেজ মাওলানা মো. আশিকুর রহমান নঈমীর বিরুদ্ধেও। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "ঘটনাগুলো আগেই ভুক্তভোগী ছাত্রদের অভিভাবকেরা সমাধান করে ফেলেছেন। আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ নেই।"
তবে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য বারবার অনুরোধ জানান পরিচালক আশিকুর রহমান এবং সংবাদটি ধামাচাপা দেওয়ার বিনিময়ে 'হাদিয়া' (ঘুষ) দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
মাদ্রাসার ভেতরে শিশুদের ওপর এমন পৈশাচিক নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন:
"বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত ভুক্তভোগী কোনো পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমরা মাত্রই ঘটনাটি অবগত হয়েছি। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকলে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে এর খোঁজ নেবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"