
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে কোরবানির পশুর চামড়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না পেয়ে এবং উপযুক্ত দাম না হওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া সড়কেই ফেলে রেখে গেছেন।
ঈদুল আজহার পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে শহরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার পাশে কোরবানির পশুর চামড়া স্তূপ করে রাখা হয়েছে। তবে বাজারে কোনো ক্রেতা, বিক্রেতা কিংবা মৌসুমি ব্যবসায়ীর আনাগোনা নেই এবং চামড়ার রক্ত পচে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে শহরের পৌর সুপার মার্কেট এলাকা, কাচারি পুকুরপাড় ও শহীদ পলু সড়কের মোড়ে চামড়ার বড় স্তূপ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেক কোরবানিদাতা চামড়া বিক্রির আশায় অপেক্ষা করলেও শেষ পর্যন্ত উপযুক্ত দাম না পেয়ে হতাশ হয়ে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চামড়ার যথাযথ সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে পুরো শহরে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। এতে আশপাশের দোকানদার, পথচারী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, সময়মতো এই চামড়া সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা না হলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলাজুড়ে বড় সাইজের গরুর চামড়াও বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫০, ১০০, ১৫০, ২০০, ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায়। স্থানীয়দের মতে, চামড়ার এমন অস্বাভাবিক কম দাম গত কয়েক বছরের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
চামড়া কিনে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে তুলনামূলক বেশি দামে চামড়া সংগ্রহ করলেও শহরের আড়তে এসে তারা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছেন না। স্থানীয় মৌসুমি ব্যবসায়ী আব্দুল করিম জানান, তিনি গ্রাম থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে প্রায় ৩০০টি চামড়া কিনেছেন। কিন্তু বাজারে আনার পর আড়তদাররা প্রতি পিসের দাম মাত্র ১০০ টাকা বলছেন। এভাবে চলতে থাকলে তাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে। আরেক ক্রেতা শাহীন মিয়া জানান, এবার দাম ভালো পাওয়ার আশা করলেও বাজারে এসে দেখেন কোনো ক্রেতাই নেই। ফলে যে দামে কিনেছেন, তার অর্ধেক দামেও বিক্রি করতে পারছেন না।
কোরবানিদাতা স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। ১০০-১৫০ টাকার বেশি কেউ দাম বলতে চায় না বিধায় অনেকে চামড়া এতিমখানায় দান করে দেন। তবে এবারের পরিস্থিতি আরও খারাপ।
শহরের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা রাস্তার পাশে পড়ে থাকা চামড়ার দুর্গন্ধে চলাচল করতে সমস্যায় পড়ছেন এবং দ্রুত এগুলো অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাউসার আহমেদ বলেন, চামড়া রাষ্ট্রীয় সম্পদ হলেও বর্তমানে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে এবং সেখানে কোনো ক্রেতা বা বিক্রেতাকেও পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় কোন চামড়া কার, তা শনাক্ত করাও কঠিন। তারপরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা পেলে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা চামড়া দ্রুত অপসারণ ও চারপাশ পরিষ্কার করার জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।