
দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ৩৪টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। মধ্য জ্যৈষ্ঠের তীব্র খরতাপ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা নেই।
সোমবার (১ জুন) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৭.৮° সেলসিয়াস। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো দেশের বড় অংশজুড়ে তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের প্রখর তাপে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গরমের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও স্বস্তি মিলছে না। তাপমাত্রার সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অস্বস্তি আরও বেড়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বুধবার (৩ জুন) পর্যন্ত তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় দেশের কিছু এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তা তাপমাত্রা কমাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে না।
ঈদুল আজহার ছুটির আবহে অনেক মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। অতিরিক্ত গরমে শহরাঞ্চলে জনসমাগম ও যানবাহনের চলাচলও তুলনামূলক কমে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় আয়েও প্রভাব পড়ছে।
এদিকে তীব্র গরমের কারণে বিভিন্ন হাসপাতালে জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া ও হৃদ্রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে শয্যাসংখ্যার তুলনায় বেশি রোগী ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ রবিউল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং মৌসুমি বায়ুর বিলম্বিত প্রবেশের কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাধারণত জুনের শুরুতেই দেশের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করলেও এবার তা এখনো প্রবেশ করেনি। তাঁর মতে, আগামী ১২ জুনের আগে তাপপ্রবাহ থেকে বড় ধরনের স্বস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, দ্রুত নগরায়ন, সবুজায়ন কমে যাওয়া, জলাশয় ভরাট এবং অতিরিক্ত তাপ উৎপাদনকারী নগর অবকাঠামোর কারণে শহরাঞ্চলে গরমের প্রভাব আরও তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির দেখা না মিললে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্বস্তিকর আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।