পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে এক গ্রামীণ জনপদে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণীকে (১৮) আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং তার সাথে থাকা আত্মীয়কে ধর্ষণের চেষ্টার এক লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এই পৈশাচিক কাণ্ডের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা।
বর্তমানে নির্যাতিতা ওই দুই নারী পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি আদালতে হাজির করে জবানবন্দি রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসন ও মামলার এজাহারের বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণী তার বাবা-মায়ের সঙ্গেই বসবাস করেন। তাদের মূল বাড়িটি গ্রামের একটি নির্জন এলাকায় অবস্থিত। এ ছাড়া সরকারি একটি আশ্রয়ণ প্রকল্পেও তাদের নামে বরাদ্দ পাওয়া একটি ঘর রয়েছে, যেখানে তারা নিয়মিত যাতায়াত ও বসবাস করেন। সম্প্রতি ওই তরুণীর বাড়িতে তার মামি বেড়াতে এসেছিলেন। গত রোববার বিকেলে ভাগনি ও মামি দুজন মিলে পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখতে যান। অনুষ্ঠান উপভোগ শেষে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তারা গ্রামের নির্জন বাড়িটিতে ফিরে আসেন। কিন্তু তারা পৌঁছানোর আগেই তরুণীর বাবা-মা মূল বাড়ির বাইরের টিনের দরজায় তালা লাগিয়ে পাশের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ঘুমাতে চলে গিয়েছিলেন।
তালাবদ্ধ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তারা সেখানে একজন অপরিচিত ব্যক্তিকে দেখতে পান। গভীর রাতে পায়ে হেঁটে আশ্রয়ণ প্রকল্পে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তারা ওই অচেনা ব্যক্তির কাছে একটি ভ্যান ভাড়া করে দেওয়ার জন্য সাহায্য চান। সাহায্য করার কথা বলে ওই ব্যক্তি তখন সামনের দিকে এগিয়ে যান। তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ব্যক্তি একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে আরও পাঁচজন সহযোগীসহ সেখানে ফিরে আসেন।
ঘটনাস্থলে এসেই লম্পটদের মধ্য থেকে তিনজন জোরপূর্বক ঘরের বেড়া খুলে তরুণীকে ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঠিক একই সময়ে বাকি তিনজন ওই তরুণীর মামিকে জোর খাটিয়ে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে তুলে পার্শ্ববর্তী করতোয়া নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। নির্জন নদীর পাড়ে তিন বখাটে মিলে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালালে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারী কৌশলে তাদের কবল থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে রাত সোয়া একটার দিকে ওই নারী কোনোমতে পালিয়ে পুনরায় তার ভাগনির বাড়ির সামনে এসে পৌঁছান। তাকে আসতে দেখে ঘরের ভেতর থাকা ধর্ষক তিনজন দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সোমবার ভোরে তারা দুজন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাদের দ্রুত দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতেই তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্বর এই অপরাধের সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার মুঠোফোনে জানান, "ভুক্তভোগীরা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের আদালতে হাজির করে জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।"