
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক ব্যক্তির অবৈধ সম্পদের উৎস ও কথিত অনিয়ম নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১০ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজি ও মানহানির অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেছেন উপজেলার রাতইল এলাকার বাসিন্দা জামিরুর রহমান (তুহিন)।
তবে অভিযুক্ত সাংবাদিকদের দাবি, দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মুখ বন্ধ করতেই এই ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ মামলা করা হয়েছে, যা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে স্তব্ধ করার একটি অপচেষ্টা।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত মে মাসে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী বাদীর সম্পদের উৎস, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও আর্থিক বিষয়াদি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল এলাকার বাসিন্দা জামিরুর রহমান (তুহিন) গোপালগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ক্রাইম নিউজ, নজর পত্রিকা, দৈনিক যুগের কথা, দৈনিক ভোরের বাণী ও দৈনিক দেশ সময় পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক, বার্তা সম্পাদক, উপদেষ্টা সম্পাদক, প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় বাদী দাবি করেছেন, প্রকাশিত সংবাদগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, যার কারণে তিনি সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে প্রায় এক কোটি টাকার মানহানির শিকার হয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। দাবিকৃত অর্থ না দিলে আরও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার পরিবার এক লাখ টাকা প্রদান করলেও অবশিষ্ট অর্থের জন্য চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছিল।
সাংবাদিকরা চাঁদাবাজির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
তারা বলেন, আমরা সম্পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত, স্থানীয় অনুসন্ধান এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে জনস্বার্থে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ করেছি। এর সঙ্গে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অর্থ দাবির ঘটনা জড়িত নয়। মূলত দুর্নীতির খবর আড়াল করতে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতেই এই হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে।"
এই ঘটনার পর স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা বলছেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর আইনি প্রক্রিয়ার নামে সাংবাদিকদের এভাবে হয়রানি করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে। গণমাধ্যমকর্মীরা এই মামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।