নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল বের করার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে পড়েছে। কুমিল্লার চান্দিনা ও বুড়িচং থানা পুলিশ গত তিন দিনে পৃথক অভিযান চালিয়ে এই মিছিলের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দলটির ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত চান্দিনা ও বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে, গত রোববার (৩১ মে) মহাসড়কের ওই অংশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আকস্মিকভাবে এই ঝটিকা মিছিলটি বের করেছিলেন।
এই মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার (১ জুন) চান্দিনা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মিথুন কুমার মন্ডল বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৮ জন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, সোমবার (১ জুন) রাতে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি চান্দিনা পৌর যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মনির হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে সন্দেহভাজন হিসেবে উপজেলার এতবারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি তথা চান্দিনা মহিলা কলেজের শিক্ষক আক্তার হোসেন শাহিন এবং বুধবার সকালে মুরাদপুর বাজারে নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি এম.এ. আলী এরশাদকে (৪০) আটক করে চান্দিনা থানা পুলিশ।
এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় গত তিন দিনের বিশেষ অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. কামরুজ্জামান (৩১), উপজেলা মৎস্যজীবী লীগ নেতা মো. মমিনুল ইসলাম (৪৭), কোরপাই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা অহিদ মেম্বার (৪২), এবং আবিদপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল হাসানসহ (৩৬) একজন সন্দেহভাজন এবং বাকি এজাহারনামীয়সহ সর্বমোট ১২ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক মো. হুমায়ন কবির এ প্রসঙ্গে জানান, “আমরা চান্দিনা ও বুড়িচং উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে গত তিন দিনে মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করে কুমিল্লা আদালতে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে তিনজন সন্দেহজনক আসামিও রয়েছে। অপর নয়জন এজাহার নামীয় আসামি।”
অন্য দিকে, এই মামলার ঘটনাস্থল এবং পুলিশের গ্রেফতার প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন ও এনসিপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে নানা ধরনের মিশ্র ও ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন লেখেন, “বুড়িচং থানার কোরপাই এলাকার আওয়ামী লীগের নেতারা মিছিল করল আর মামলা হয়ে গেল চান্দিনা থানায়। বুড়িচং থানায় মামলা করল না কেন? আমি প্রশ্ন রাখলাম চান্দিনার জনগণের কাছে।”
কুমিল্লা উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব ফজলুল ছাত্তার নিজের ওয়ালে লেখেন, “আমাদের গ্রামের কাউকে হয়রানিমূলক মামলায় আসামি করতে হলে আমার সঙ্গে বা দলীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি; না হয় রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেওয়াই উত্তম হবে।”
একই ইস্যুতে এনসিপি নেতা গাজী আলাউদ্দিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “রাজনৈতিক নামে মানুষকে ব্যবহার করে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি করবেন, ক্ষমতা অপব্যবহার করে কাউকে গ্রেফতার কিংবা মামলা বাণিজ্য করবেন তাহলে ধরে রাখুন আপনার জন্য সব কিছু অপেক্ষা করছে।”
মামলার এক্তিয়ার ও ঘটনাস্থল নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান স্পষ্ট করে জানান, “ঘটনাস্থল চান্দিনা উপজেলার বড়গোবিন্দপুর। এখানে এসে তারা সমাবেশ করেছিল। তাই চান্দিনা থানায় মামলা হয়েছে।”
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, গ্রেফতারকৃত সমস্ত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।