
বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসনে কার অবদান ও আত্মত্যাগ বেশি ছিল— এই শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের বিতর্ক শেষ পর্যন্ত রূপ নিল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে। ত্যাগী নেতার দাবি নিয়ে তর্কের একপর্যায়ে নারায়ণগঞ্জে জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতাকে যুবদলের নেতাকর্মীরা নির্মমভাবে পিটিয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চত্বরে এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আক্রমণকারীরা সবাই জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনির অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে এদিন জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। হামলায় গুরুতর আহত ওকিল উদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন আকস্মিক এই মারামারির ঘটনায় সেখানে উপস্থিত মেলার স্টল মালিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে মারধরের একটি ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গেছে।
সেখানে উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদের উদ্যোগে স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষ মেলা, বই মেলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি এবং বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া পাশাপাশি অবস্থান করছিলেন।
কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক তথা জেলা পরিষদের প্রশাসক মামুন মাহমুদ। উদ্বোধনের পর ফটোসেশনের সময় যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে খোঁচা দিয়ে বলেন, বিগত ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে অনেকের দেখা না মিললেও এখন ছবি তোলার জন্য সবাই সামনে চলে আসেন। এই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন পাল্টা বলেন, আপনি নিজেও তো গত ১৬ বছর রাজপথে সক্রিয় ছিলেন না। এই নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা ওকিল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, "অনুষ্ঠানের শুরুতে মশিউর রহমান রনির সঙ্গে আমার তর্ক বিতর্ক হয়। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদসহ অন্যান্য নেতারা একত্রে বসে আমাদের মিলিয়ে দেন। এরপর আমি জেলা পরিষদের কার্যালয় প্রাঙ্গণে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। আমি এই ঘটনায় মামলা দায়ের করবো।"
অন্যদিকে হামলার দায় এড়িয়ে জেলা যুবদলের সদস্যসচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, "প্রথমে আমাদের দুইজনের মাঝে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। পরে নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে উভয়পক্ষকে মিলমিশ করিয়ে দেন। কিন্তু অতি উৎসাহী কিছু কর্মী কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে ওই ঘটনা ঘটায়। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, "এই ঘটনায় আমাদের কাছে কেউ কোনো ধরনের অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা গেছে।"