
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলায় বিএনপি নেতা সোহেল রানাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পর উল্টো এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন ওই নেতার স্ত্রী।
বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) পাবনার আমলি আদালত-৪ এ জামিন আবেদন করলে বিচারক বেবী নাজনীন তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিজিডি কার্ড, সরকারি ঘর, পানির পাম্পসহ বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিএনপি নেতা সোহেল রানা প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরে দীর্ঘ সময় পার হলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী কোনো সুবিধা পাননি।
গত শুক্রবার (৫ জুন) রাতে প্রতারণার অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে আটক করে থানায় সোপর্দ করে। তবে তিনি চিকিৎসার কথা বলে কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে যান। পরে শনিবার (৬ জুন) ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্ত সোহেল রানা পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
এদিকে, ঘটনার সংবাদ প্রকাশের পর ভাঙ্গুড়া উপজেলার স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি গত ৮ জুন দায়ের করেন অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানার স্ত্রী শিখা খাতুন।
সাংবাদিক মাসুদ রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব তথ্য যাচাই করেই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দেশের একাধিক গণমাধ্যমেও বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। তার দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি করতে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং অবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি জানান, প্রতারণার মামলায় আদালত বিএনপি নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।