
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, সুরক্ষা ও সম্মান নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠন এবং তাদের পথে পথে হয়রানির জন্য দায়ী সিন্ডিকেট চক্র নির্মূলের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধিতে আনীত একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
আলোচনায় প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘প্রবাসীদের আমরা ‘শ্রমিক’ বলি। আমি এই শব্দটি পরিবর্তনে আগ্রহী। তাদের জন্য সম্মানজনক কোনো শব্দ ব্যবহার করা উচিত, যেটা অন্তত তাদের মানসিকভাবে সান্ত্বনা দেবে যে দেশ তাদের ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধার জায়গায় রেখেছে। মানুষ রপ্তানি না হোক, এটাকে একটা সম্মানজনক জায়গায় আমাদের নিতে হবে।’
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে আর্থিক রেমিট্যান্সের পাশাপাশি ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’-এর গুরুত্বও কম নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের মেধাবী নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই ধরনের পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ফিন্যান্সিয়াল রেমিট্যান্স তো অবশ্যই লাগবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্য। কিন্তু তার চেয়ে কম ইম্পর্টেন্ট নয় ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’। উন্নত দেশগুলো তাদের তরুণ-যুবকদের ইনসেনটিভ দিয়ে, মূল্যায়ন করে দেশে ফিরিয়ে আনছে। উদাহরণস্বরূপ ভারত ডা. দেবী শেঠির মতো রত্নকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে। আমাদের মেধাবীরাও টাকা চায় না, তারা সম্মান আর কাজের একটি কমফোর্ট জোন চায়। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, ফিন্যান্সিয়াল রেমিট্যান্সের পাশাপাশি ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্সের প্রতিও যেন গুরুত্ব দেওয়া হয়।’
প্রবাসীদের দেশে ফিরে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ, মিথ্যা মামলা ও প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার বিনীত অনুরোধ, এই ভাই-বোনগুলোকে যেন আমরা টাকার মেশিন হিসেবে না দেখি। আমরা যেন তাদের আমাদের কলিজা হিসেবে দেখি।’
এ সময় পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বিদেশে থাকা অনেক বাংলাদেশি জটিলতায় পড়ছেন উল্লেখ করে তিনি দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সিন্ডিকেটের কারণে প্রবাসী কর্মীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা কষ্টে থাকলেও আপনজনদের চোখের পানি দেখায় না। ভিডিও কলে আর্টিফিশিয়াল হাসি দেয়। ঘাটে ঘাটে বসে থাকা সিন্ডিকেট চক্র এই মানুষগুলোর রক্ত চুষে খাচ্ছে। এই সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।’
এ ছাড়া বিদেশে কোনো বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হলে রাষ্ট্রীয় খরচে মরদেহ দেশে আনার দাবি জানান তিনি।
দূতাবাসগুলোর সেবার মান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘দুনিয়ার যেসব দেশে আমাদের প্রবাসীদের সমস্যা বেশি, সেখানে একটি ‘সংসদীয় টাস্কফোর্স’ ফিজিক্যালি ভিজিট করতে পারে। তারা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে প্রবাসীদের কথা সরাসরি শুনবে।’
প্রবাসীদের ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু তাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলছি, তারা যেন মেহেরবানি করে বীরের সম্মান পায়। সরকার উদ্যোগ নিলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।’