
কুমিল্লার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান আহম্মেদ প্রধান নিখোঁজ ছিলেন না, বরং আত্মগোপনে ছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
শনিবার কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জিসান আহম্মেদ প্রধান ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক নারীকে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরবর্তীতে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান শুক্রবার বিয়ে করবেন বলে সম্মতি দেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিয়ে এড়াতে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জিসান নিজেই আত্মগোপনে চলে যান। এ সময় তার চাচাতো ভাই রাসেল আহমেদের মাধ্যমে থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এদিকে জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে জিসানকে প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজ আদায়ের পর থেকে জিসানের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত সাড়ে ৮টার পর তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
শুক্রবার সকালে জিসানের বড় ভাই অ্যাডভোকেট রাসেল আহমেদ রাফি দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে রাতে লাকসাম জংশন এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশ।
বর্তমানে জিসান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি দাবি করেন, দাউদকান্দি মডেল মসজিদের সামনে থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল। এরপর কী ঘটেছে তা তিনি মনে করতে পারছেন না।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারী বলেন, “উদ্ধারের পর জিসান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরায় একটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য আগামীকালের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।”
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।