
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় নিজ ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৪) নামে হাসপাতালের এক নারী কর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২জুন ) সকালে উপজেলার মুরাদপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
নিহত শারমিন আক্তার কুমিল্লার ভাঙ্গুরা উপজেলার জুগিরখেল এলাকার নাসির উদ্দিনের মেয়ে। তিনি স্থানীয় মদনপুরের ‘আল-বারাকা হাসপাতাল’-এ কর্মরত ছিলেন। অবিবাহিত শারমিন গত চার বছর ধরে মুরাদপুর এলাকার ওই বাড়িতে একা একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ শনিবার সকাল ১১টা বেজে গেলেও শারমিনের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। দীর্ঘসময় কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির মালিকের ছেলের স্ত্রী তাঁকে ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় শারমিনের মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে বন্দর থানার ধামগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার পর ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধামগড় পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ফজলুল হক জানান,প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে নিহতের বাম হাতে ব্লেড দিয়ে কাটার মতো কিছু পুরোনো ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তিনি অতীতেও বিষণ্ণতা বা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা প্ররোচনা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় বন্দর থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরসহ আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।