
বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সিরাজগঞ্জে দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মানহানির মামলায় শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে স্বস্তি পেলেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। আজ রোববার (১৪ জুন) দুপুরে সিরাজগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অধীনে থাকা চৌহালী ও সদর আমলি আদালতে সশরীরে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা জানালে বিচারক সুমন কুমার কর্মকার তাঁর স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার দুপুরে মুফতি আমির হামজা তাঁর আইনজীবীকে সাথে নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিনের আবেদন জমা দেন। এরপর উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব, যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক দুটি মামলাতেই তাঁকে স্থায়ী জামিন দেওয়ার আদেশ দেন। জামিন প্রাপ্তির এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুফতি আমির হামজার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী আবু তালেব এবং বাদীপক্ষের আইনজীবী হুমায়ুন কবির (কর্নেল)।
আদালত নথিপত্র অনুযায়ী, সংসদ সদস্য আমির হামজার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা দুটির মধ্যে প্রথম মামলাটি করেছিলেন আইনজীবী হুমায়ুন কবীর। গত ২ এপ্রিল দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে লক্ষ্য করে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ মন্তব্য করার অভিযোগে এই নালিশি মামলাটি ঠুকে দেওয়া হয়। ওই মামলায় আদালত প্রথমে সমন জারি করলেও নির্দিষ্ট কার্যদিবসে বিবাদী উপস্থিত না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে গত ২৭ এপ্রিল উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে তিনি আট সপ্তাহের আগাম জামিন সংগ্রহ করেছিলেন।
অন্য মামলাটি দায়ের করেছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক শামীম খান। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আপত্তিকর ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। আজ রোববার সিরাজগঞ্জের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এই দুটি সংবেদনশীল মামলা থেকেই স্থায়ীভাবে জামিন পেলেন এই ধর্মীয় বক্তা ও সংসদ সদস্য।