
সীমান্তের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ভেদ করে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইনের এক বড় ধরনের ভারতীয় অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত দিয়ে ১১ জন বাংলাভাষী নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে বিজিবির টহল দলের কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানের মুখে ভারতের সেই চেষ্টা পুরোপুরি নস্যাৎ হয়ে যায়। এদিকে ওপার থেকে সীমান্ত এলাকায় আরও অন্তত ১২৫ জনকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা হয়েছে বলে বিজিবির কাছে চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে।
আজ রোববার (১৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্তের আন্তর্জাতিক ৭৭ এস-২ সীমানা পিলার সংলগ্ন এলাকা ব্যবহার করে ওই ব্যক্তিদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। সে সময় সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। বিজিবির এমন শক্ত অবস্থান দেখে বিএসএফ সদস্যরা বাধ্য হয়ে ওই দলটিকে সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
অনুপ্রবেশের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, অবৈধভাবে পুশইনের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা ওই ১১ জনের সবাই বাংলাভাষী নারী ও পুরুষ ছিলেন। বিজিবির তীব্র বাধার মুখে বিএসএফ তাদের পিছু হটে অন্যত্র নিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
সীমান্তের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের সর্বশেষ প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ওই ১১ জনকে দর্শনা-জয়নগর সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে এখন বারাদী-সুলতানপুর সীমান্তের ওপারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরও জানা গেছে যে, সীমান্তের ওপারে আরও প্রায় ১২৫ জন মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করে রাখা হয়েছে, যাদেরও যেকোনো মুহূর্তে বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানোর চতুর চেষ্টা করা হতে পারে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান স্পষ্ট করে জানান, সীমান্তে অনুপ্রবেশের মতো যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও অপচেষ্টা মোকাবিলা করতে বিজিবি বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক (অ্যালার্ট) অবস্থানে রয়েছে। একই সাথে পুরো সীমান্তজুড়ে টহল ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা নজরদারি আগের চেয়ে অনেক গুণ জোরদার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দর্শনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে পুশইনের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক চেষ্টা। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটা অনুরূপ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজিবি সামগ্রিক সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র ও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদেরও যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলে সতর্ক থাকার ও বিজিবিকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।